মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ঃ
বড়লেখায় পাহাড়ি জনপদ ‘বোবারথল’ ১১টি গ্রামের, ৯শত পরিবারের প্রায় ১৮ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাদের স্কয়ার গ্রুপ অপ কোম্পানীর লীজকৃক “শাহবাজপুর চা-বাগান” কর্তৃপক্ষ বে-আইনীভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত ও ভূমি দখলের সংবাদ পরিবেশন করায় মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক আমাদের কন্ঠ ও দৈনিক সিলেট বাণী পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি মশাহিদ আহমদ এর বিরুদ্ধে সাইবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হলে দীর্ঘ ৩ বছর মামলা চলমান থাকার পর গত ৩ নভেম্বর সোমবার সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক লুৎফুর নাহার এ খালাসের রায় প্রদান করেন।
সাংবাদিক মশাহিদ আহমদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন এডভোকেট মামুনুর রশিদ। স্কয়ার গ্রুপের লীজকৃত মৌলভীবাজারের বড়লেখার শাহবাজপুর চা বাগান কর্তৃক বোবারতল এলাকার জনগণকে বাসস্থান হইতে উচ্ছেদ ও ভুমি দখলের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক মশাহিদ আহমদ এর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চা বাগান কর্তৃপক্ষ বিগত ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ এ মামলা ( মামলা নং- ৩৫/২৩ইং) দায়ের করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিহেশন ( পিবিআই) মৌলভীবাজার বিগত ১৬/১১/২০২৩ইং বিজ্ঞ সাইবার ট্রাইব্যুনাল, সিলেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন ( স্বারক নং- পিবিআই/ মৌলভীবাজার জেলা/২১৭৭, তারিখ : ১৯/১১/২০২৩ইং) দাখিল করেন। উক্ত ষড়যন্ত্রমূলক হয়রানী মামলায় সাংবাদিক মশাহিদ আহমদ বিগত ১৪/০৩/২০২৪ইং, স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
উল্লেখ্য- জেলার বড়লেখা উপজেলার ৫নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি পাহাড়ি জনপদ ‘বোবারথল’ গ্রামে “নয়শত” পরিবারে প্রায় ১৮ হাজার এর অধিক লোকের মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। শাহবাজপুর চা-বাগান কর্তৃপক্ষ অন্যায় ও বে-আইনীভাবে “বোবারথল” খাস খতিয়ানের জমি আতœসাৎ করার উদ্দেশ্যে এলাকার নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় লোকজনদের উপর একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানীসহ এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগনের উপর মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়াসহ বিভিন্ন ভাবে চালানো হয় নির্যাতন। তামাদি মোদ্দতের বহু উর্দ্ধকাল যাবত প্রায় ৫ যুগ ধরে (৬০ বছর) এলাকায় বসতবাড়ী তৈরি করে ভোগদখল ও শাসন সংরক্ষণ করে আসতেছেন।
এখানে ভোট কেন্দ্র, বিজিপি কেন্দ্র ১টি, এমপিও ভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩টি, ২টি দাখিল মাদরাসা, ৫টি হাট হাট বাজার, ২টি খ্রিস্টান মিশনারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০টি জামে মসজিদ, ৪টি খাসিয়া গির্জাসহ ৪হাজার ভোটার রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধে সীমান্ত এলাকা হিসেবে বোবারথল ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় কেন্দ্র।
