সমাগত শারদীয় দূর্গাপূজা : ঈশ্বরদীতে মন্দিরে মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীরা ব্যস্ত

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রায় এক পক্ষকাল বাকি। তাই ঈশ্বরদীর মন্দিরে মন্দিরে পূর্ণদ্যোমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। দিন-রাত সমানতালে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।

পঞ্জিকা মতে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বোধন শেষে ষষ্ঠি তিথিতে প্রতিমা আসনে অধিষ্ঠিত হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, মহাষ্টমী পালিত হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। মহানবমী ১ অক্টোবর আর বিজয়া দশমী পালিত হবে ২ অক্টোবর। এদিন বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শহরের ঠাকুরবাড়ি সত্য নারায়ণ মন্দিরে প্রতিমা শিল্পী আনন্দ পালকে দেখা যায়, তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। পাশে তার ছোট ছেলে এবং এক শ্রমিক দোমাটি লাগাচ্ছে প্রতিমার গায়ে।

প্রতিমা কারিগর আনন্দ পাল এসেছেন সিরাজগঞ্জ থেকে। তিনি বলেন, আমার বাবা প্রয়াত বীরেন পাল দীর্ঘদিন ঈশ্বরদীতে মৌবাড়ি ও ঠাকুরবাড়িতে প্রতিমা তৈরীর কাজ করেছেন। বাবা মারা যাওয়া পর আমি এই দুটি মন্দির ছাড়াও আমবাগ শিব মন্দির এবং রাজাপুরে প্রতিমা তৈরী করছি। দূর্গা প্রতিমায় মাটি দেওয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রতিমা এবং গায়ের মাটির গহনার ডিজাইনগুলোর ফিনিসিং এর কাজ চলছে। কোনো সমস্যা থাকলে পরিবর্তন করা হবে। এরপর রঙের কাজ শুরু হবে। একেকটি প্রতিমায় রং করতে দুই দিন সময় লাগবে। হাতে সময় কম। তাই দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে।

কর্মকারপাড়া মাতৃ মন্দিরে প্রতিমা তৈরীরত শিল্পী গণেন পাল বলেন, পূূজা কমিটির লোকজন এসে প্রতিমা দেখে যাচ্ছেন। প্রতিটি তৈরিতে বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ৫-৭ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। সেই হিসাবে দাম দিতে চাচ্ছেন না পূজা কমিটির লোকজন। তিনি আরও বলেন, পূজার দুই মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছি। নতুবা সময় মতো প্রতিমা ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হবে না। সামনে বিশ্বকর্মা পূজা। কয়েকদিন পর আমরা পুরোদমে প্রতিমায় রঙের কাজ শুরু করব।

ঈশ্বরদী উপজেলা হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল রায় জানান, মন্দিরগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। শিল্পীরা এখন মহাব্যস্ত। এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে।