দীর্ঘ বেদনা

এনামূল হক টগর

দীর্ঘ ব্যথার আঘাতে কিছদিন আগেই আমার জীবন ছিল অসহায়।
ওপারে চলে যাওয়ার বার্তা ছিল আপন ঠিকানায়।
ইতিহাসে নাম লিখেছে কতো আপনজন অন্তরঙ্গ বন্ধু স্বজন প্রিয়জন।
কিন্তু তুমি আমাকে দান করেছো দীর্ঘ আয়ু কল্যাণ।
দীর্ঘ করুণার প্রেম দুঃখ কষ্টে নতুন জীবন।
অন্তর বন্ধু তুমি কোথায় অনাদি চিরন্তন?
তুমি আমাকে আরো দান করেছো সুযোগ্য সুন্দর দীর্ঘ আয়ুর জ্ঞানী উত্তরসূরি।
তোমাকে খুঁজি এই কষ্টের পৃথিবীতে দাউ দাউ বুকে যন্ত্রণায় বিভোর।
তোমার ধৈর্যের অশ্রু আমার আখি জলের সাথে মিশে কষ্টের সাগরে মহামিলন।
বেদনা ছাড়া হৃদয় মানব প্রেমে জাগ্রত হয় না কোনদিন।
কষ্ট ছাড়া স্রষ্টাকে চেনা যায় না জীবন মুক্তির সম্ভাবনাও পায়না।
যন্ত্রণার পরিতাপে দেহ পুড়ে পুড়ে ভেতরে স্বর্ণের খনি অর্জিত গোপন।
আনন্দ ক্ষণিক জীবনকে কখনোই জাগ্রত করে না।
অতল আঁধারের গভীরে ডুবে যায় নিমজ্জিত অবোরহ!
যন্ত্রণা আমিত্বের দেয়ালকে ভেঙে ধ্বংস করে লোভ লালসা মোহ।
সুখ কখনো মানবতাকে প্রশ্ন করে না কেমন আছো অহংকারী জীবন?
আনন্দের গভীরে রঙিন প্রাণ চঞ্চল খেলা করে দুটি নয়ন।
দুঃখ ধীরে ধীরে অস্তিত্বের গভীরে প্রবেশ করে প্রজ্ঞা স্থির।
শরীর পুড়ে পুড়ে অঙ্গার করে পরিশুদ্ধ প্রার্থনা দীপ্তকর।
আনন্দ জীবনকে হাসায় দুঃখ মানুষকে শেখায় সভ্যতার অভিজ্ঞতা।
ব্যথা শরীরকে জ্বালায় পোড়ায় খাঁটি চিত্তে জীবন অমর মহামতি!
কষ্ট সময়কে গতিশীল করে দেশ সমাজ স্বনির্ভর প্রগতি.
দুঃখের গভীরে বাস করে বেদনার এক অভিজ্ঞ শিক্ষক।
ধৈর্যশীলদের দুঃখ মুক্তির দরজা খুলে দেয় বিজ্ঞ চেতনার বিবেক।
জ্ঞানীদের নিকট থেকে দুঃখ কখনো পালায় না!
মুক্তিপ্রাপ্ত আত্মা দুঃখে জর্জর বেদনায় ক্লান্ত আজীবন।
বেদনার গভীরে লুকিয়ে আছে শান্তির সুদূর পথ গুপ্ত চেতনার নয়ন!
যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে স্রষ্টা স্বয়ং করুণার প্রেমে হৃদয়ে বন্ধন।
কষ্টকে জয় ছাড়া স্রষ্টার সাক্ষাৎ মিলে না।
ব্যথার মধ্যেই ঈশ্বরের চৈতন্য সাক্ষাৎ অর্জন!
দুঃখের গভীরে তুমি আমাকে দান করেছো দীর্ঘ জীবন অশেষ!
আমাকে দান করেছো দীর্ঘ করুণা দীর্ঘ প্রেমময় বংশধর দীর্ঘ ক্ষমা বিশ্বাস।।

২৪/০৮/২০২৫