বগুড়ায় মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে গরু ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

সঞ্জু রায়, বগুড়া:
বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ফিল্মি স্টাইলে ট্রাক বোঝাই গরু ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৩ সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এই অভিযানে ডাকাতি হওয়া গরুর মধ্যে ২টি জীবিত ও ৫টি মৃত গরু এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ডিবির ইনচার্জ ইকবাল বাহার।
জেলা গোয়েন্দা শাখার এই কর্মকর্তা জানান, গত ৯ জুলাই লালমনিরহাটের পাটগ্রামের রসুলগঞ্জ হাট থেকে ১২টি গরু কিনে ট্রাকে করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী মোঃ জামাল উদ্দিন। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ট্রাকটি বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর থানাধীন ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক তাদের গতিপথ রোধ করে সামনে ব্যারিকেড দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গাড়ি থেকে নেমে গরুর ট্রাকের বাম পাশের জানালার গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা চালক, সহকারী ও ব্যবসায়ীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে জিম্মি করে ফেলে। এরপর আনুমানিক ১৫ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি গরু, ৩টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা লুট করে চম্পট দেয়। এই ঘটনায় ওই দিনই শেরপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা (মামলা নং-১৬) দায়ের করা হয়। ডাকাতির ঘটনাটি জানার পর বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার জনাব মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর সরাসরি নির্দেশনায় শেরপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মাঠে নামে। শুরু হয় ছায়াতদন্ত ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় চিরুনি অভিযান। পরে ডিবি ও শেরপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার হাতিয়া এলাকায় প্রথম অভিযান চালায়। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে- মোঃ আব্দুস সালাম সরকার (৩৫) (দিনাজপুর) ও মোঃ বুলু মিয়া (২৮) (মানিকগঞ্জ)। তাদের হেফাজত থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক এবং ট্রাকে থাকা ৫টি মৃত গরু উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে ১০ জুলাই রাত ১:৪৫ মিনিটে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার গোলচত্বর এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় চক্রের আরেক সদস্য মোঃ মহিদুলকে (৩৪) (মানিকগঞ্জ)। তার কাছ থেকে লুট হওয়া অবশিষ্ট ২টি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ধৃত মহিদুলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতে একটি চুরির মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ডিবির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইকবাল বাহার জানান, এই চক্রের সাথে জড়িত এবং বর্তমানে পলাতক থাকা অন্যান্য ডাকাতদের গ্রেফতার এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের চিরুনি অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।