হযরত বেল্লাল, সুুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজার-কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলার সঙ্গে সংযোগকারি সড়কে তিস্তা নদীর উপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীঘর্ তিস্তা পসি গার্ডার সেতুর নামকরণ ‘ শরীয়তুল্লাহ মাষ্টার সেতু’ করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন এলাকাবাসি। আগামী ২০ আগষ্ট সেতুটি উদ্বোধন করা হবে।
সোমবার সেতু এলাকায় ‘ শরীয়তুল্লাহ মাষ্টার সেতু’ বাস্তবায়ন কমিটি ও এলাকাবাসির আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই শতাধিক এলাকাবাসি অংশ গ্রহন করেন। অবস্থান কর্মসূচী চলাকালিন সময়ে বক্তব্য রাখেন, হাসান মাসুদ খান বাদল, শরিফুল ইসলাম, রাখিকুল রহমান, বিপুল মিয়া, শামীম মন্ডল প্রমুখ।
বক্তাগণ বলেন, তিস্তা পিসি গার্ডার সেতু বাস্তবায়নের মুল কারিগর ছিলেন শরীয়তুল্লাহ মাষ্টার। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর তিস্তু সেতু বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করেছেন। তারই ফসল আজকের তিস্তা পিসি গার্ডার সেতু। তাঁর এই তাগের সন্মান স্বরুপ সেতু নাম করণ ‘ শরীয়তুল্লাহ মাষ্টার সেতু’ করা দারকার। এটি এলাাবাসির প্রাণের দাবি। “মওলানা ভাসানীর নামে বাংলাদেশে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কেন তাঁর নামে এই সেতুর নাম করণ করতে হবে। সেতুর নাম পরিবর্তন করে মরীয়তুল্লাহ মাষ্টার সেতু করার জোর দাবি জানান বক্তাগণ।
গত ১০ আগষ্ট পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শামীম বেপারী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তিস্তা পিসি গার্ডার সেতুর নাম ‘ মওলানা ভাসানী সেতুর নামকরণের বিষয়টি জানা গেছে।
উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, সেতুটির নামকরণ ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ করায় এলাকাবাসির মাঝে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসি মনের দিক থেকে বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না।
উপজেলার পাঁচপীর বাজারস্থ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এস এ এস এর নিবার্হী পরিচালক এ বি এম নূরুল আকতার মজনু বলেন, সেতুটির নামকরণ যদি ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ হওয়ায় এলাকাবাসির ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুটির নামকরণ ‘শরিয়তুল্লামাষ্টার সেতু’ করার জন্য এলাকাবাসি মানববন্ধন করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলীর কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীরবাজার- কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগকারি সড়কে তিস্তা নদীর উপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করছেন চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সেতুটি নির্মাণে অর্থ প্রদান করছেন সৌদি ডেভেলোপম্যান্ট ফান্ড। এতে ব্যয়হবে ৭৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারি গাইবান্ধার সার্কিট হাউজে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হরিপুর-চিলমারি তিস্তা সেতুরটি ভিত্তি উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ২০১৮ সালের পর ২০২১ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে সংযোগ সড়কসহ সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথাছিল।
তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতা প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আ.ব.ম শরিওতুল্লাহ মাষ্টার বলেন, ২০০০ সাল থেকে তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলন শুরু কর হয়। ২০১২ সালে এসে তিস্তা সেতু নির্মাণ আলোর মুখ দেখতে শুরু করে। এর পর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম প্রামানিকের সার্বিক সহযোগিতায় ২০১৪ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজের সুচনা হয়।
দ্বিতীয় বারের মত ২০২০ সালের ৬ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর- চিলমারি উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগকারি সড়কে তিস্তা নদীর উপর ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয়সংশোধীত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়।
