ওসমান গনি বেড়া পাবনা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ও প্রবল বর্ষণে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় পাবনার বেড়া উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা সহ চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে। স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যমুনার পানি অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও চরাঞ্চলের নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমি পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।যাঁর ফলে বিভিন্ন ফসলাদি বিশেষ করে সবজি ফসলের ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। চর নাগদাহ্ গ্রামের ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন,
যমুনা নদীর পানি অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সেইসাথে চরাঞ্চলের ছোট- ছোট বাজার গুলোতে
জলাবদ্ধতায় এ অঞ্চলের মানুষ বেশ দুর্ভোগে রয়েছেন ও জলাবদ্ধতার দূষিত পানিতে এডিস মশা সহ নানা রকম চর্ম রোগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
চর সাফুল্লা গ্রামের গজনবী বলেন , চরাঞ্চলের গ্রামীণ রাস্তাঘাট ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় ডিঙ্গি নৌকার আশায় বসে থাকতে থাকতে ছেলেমেয়েরা পারাপার হয়ে সময় মতো তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না। চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের সাত্তার বেপারি বলেন, বেগুন , পটল, ঝিঙে, মিষ্টি কুমড়ো , শসা, কাঁচা মরিচ সহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি বেশির ভাগ মূলত নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল এলাকা থেকেই স্থানীয় হাট বাজার গুলোতে আমদানি হয়। ঢলের পানিতে অধিকাংশ সবজির জমি তলিয়ে যাওয়ায় হাট – বাজার গুলোতে সবজির আমদানি কমে গেছে, যাঁর কারণে দামও হুহু করে বেড়েই চলছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষের বাজারে গিয়ে সাধ্যমতো বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চর সাফুল্লাহ্ গ্রামের হুমায়ুন কবির, আবু সাঈদ সহ অনেকেই বলেন, যমুনা নদীর পানি প্রতিদিন যে হারে বাড়ছে এভাবে পানি বৃদ্ধি যদি অব্যহত থাকে তাহলে চরাঞ্চলের শত-শত বিঘা জমির বর্ষালি ইরি ধানের জমিতে পানি উঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে আমারা জানতে পেরেছি। তবে এ পর্যন্ত নদী পাড়ের কিংবা চরাঞ্চলের কৃষকদের ফসলের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো সংবাদ এখনো পাইনি।
