চাটমোহর উপজেলার জারদিস মোড় থেকে হান্ডিয়াল-বাঘলবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারের দাবিতে আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘চেতনায় হান্ডিয়াল’ নামে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, একযোগে সড়কের নয়টি পয়েন্টে একযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যা জনদুর্ভোগের চিত্রকে আরও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে।
চাটমোহরের জারদিস মোড় থেকে শুরু হয়ে হান্ডিয়াল, বাঘলবাড়ি পর্যন্ত এই সড়কটি চাটমোহর, গুনাইগাছা, হান্ডিয়ালসহ অন্তত তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান পথ। এই রাস্তাটিই ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে দ্রুত যাতায়াতের জন্য একমাত্র সহজ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
তবে বিগত পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায়, রাস্তাটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তায় অসংখ্য খানাখন্দে পানি জমে থাকার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
অসুস্থ রোগীকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী ও কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাস্তাটির সংস্কার কাজ অতীতে বরাদ্দ হওয়ার পরও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেও জুলাই-আগস্ট মাস পার হতেই পিছু হটে যায়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।”
বক্তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন –“আগামী এক মাসের মধ্যে যদি রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু না হয়, তাহলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
মানববন্ধন সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চেতনায় হান্ডিয়ালের আহ্বায়ক কেএম বেলাল হোসেন স্বপন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সরকারি কলেজের অধ্যাপক জাকির হোসেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন –পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কে আনোয়ারুল ইসলাম,বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসানুল ইসলাম রাজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম কালু, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব এসএম মিজানুর রহমান, স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সুধীজনসহ শতাধিক মানুষ।
মানববন্ধন চলাকালীন কিছু সময়ের জন্য আঞ্চলিক এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের নজর কাড়তে সক্ষম হয় মানববন্ধনটি।
