আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ খাদ্য সামগ্রির আকাশচুম্মি দামের কারনে যখন মৎস্যচাষীরা মাছচাষে হিমশিম খাচ্ছেন তখন বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা সদরের জিএম এ্যাকোয়া কালচার লিমিটেড নামের একটি মৎস্য খামার দেশে মাছের চাহিদা পুরণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরিবেশের সাথে লড়াই করে অব্যাহত রেখেছেন মাছের উৎপাদন কার্যক্রম।
সারা দেশের মধ্যে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা মাছে চাষের জন্য একটি বিখ্যাত উপজেলা নামে পরিচিত। এই উপজেলার সরকারি ও বে-সরকারি শতশত জলাশয় ও পুকুরে মাছ চাষ করেন মাছ চাষীরা। মাছ চাষের সাথে জড়িত থাকার কারনে এই উপজেলার বেকারত্বের সংখ্যা খুব কম। উপজেলা সদরের পাশে কালাইকুড়ি গ্রামে ৫০ একর জলাশয়ে বিশাল আকারের ২৬টি পুকুর নিয়ে মাছ চাষ করছেন জিএম এ্যাকোয়া কালচার লিমিটেড নামক একটি মৎস্য খামার। এই মৎস্য খামারটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মহিত তালুকদার। মাছের খাদ্যসহ মাছ উৎপাদনে ব্যবহৃত সকল পন্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সেই তুলনায় বাজারে মাছের দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় যখন মৎস্য চাষীরা মাছ চাষের হাল ছেড়ে দিচ্ছেন তখন জিএম এ্যাকোয়া কালচার পরিবেশের সাথে লড়াই করে দেশে মাছের চাহিদা পুরনে মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছেন। ওই মৎস্যচাষ ফার্মে বেশ কয়েক বছর যাবত পাঙ্গাস, শিংমাছ, দেশী মাগুর, তেলাপিয়া, রুই কাথলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাজারজাতের জন্য চাষ করছেন। বিশাল আয়তনে এই মৎস্য খামারে তার প্রতি দিন ৮ মেট্রিক টন মাছের খাদ্য প্রয়োজন হয়। এসব মাছের খাদ্যের প্রয়োজনে তিনি নিজ উদ্যোগে জিএম ফিডমিলস লিমিটেড নামের একটি ফিড তৈরীর কারখানা স্থাপন করেছেন। এই কারখানা থেকে উৎপাদিত মাছের খাদ্য নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে আশে পাশের এলাকায় মৎস্য চাষীদের নিকট সরবরাহ করে থাকেন। উৎপাদিত মাছের উন্নতমান বজায় রাখতে তার ফার্মে দুটি গভীর নলকুপ স্থাপন করে প্রয়োজনীয় পুকুরে পানি পরিবর্তন করে থাকেন। আবার পানির রকম একটু খারাপ হলে সেই পানি তুলে ফেলা দেয়ার জন্য বড়বড় ছয়টি সেচপাম্প ব্যবহার করে থাকেন। যার ফলে তার ফার্মে উৎপাদিত মাছের স্বাদ বেশী ও সম্পর্ন রোগ মুক্ত সতেজ মাছ বাজারে সরবরাহ করতে পারেন। তিনি ২০০২ সালে মৎস্য চাষের জন্য প্রধান মন্ত্রী কর্তৃক সর্বোচ্চ পুরস্কার লাভ করেন।
জিএম এ্যাকোয়া কালচারের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মহিত তালুকদার মাছ চাষে বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, উৎপাদিত মাছের মান নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষাগার এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকতার নিকট বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন যাবত মাদার ফিস (মা মাছ) ব্যবহার করায় সে গুলো পুরাতন হওয়ার জন্য কাংখিত মাছ উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছেনা। সরকারি ভাবে বিদেশ থেকে উন্নতজাতের মাদার ফিস দেশে সরবরাহ করা প্রয়াজন। তিনি আরো জানান, পাশ্ববর্তি দেশে আমাদের উৎপাদিত মাছ গোপনে পাচার হচ্ছে। সেটা বন্ধ করে বৈধ পথে মাছ রফতানি করা হলে সরকার ও মাছ চাষীরা উপকৃত হবে। থাইল্যান্ড সরকার মাছ চাষকে গুরুত্ব দেয়ার কারনে তাদের দেশের উৎপাদিত মাছ ইউরোপের প্রত্যকটি দেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। আমাদের দেশেও সরকার ব্যবস্থা নিলে থাইল্যান্ডের মতো মাছ রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। নানা সমস্যার মধ্যেও তিনি গত ২০২৪ সালে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৭শ ৭৫ কেজি বড় আকারের মাছ বাজারজাত করেছেন। তার ফার্মে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে মাছ ক্রয় করে নিয়ে যান। ইতি পুর্বে মৎস্য ফার্মে বিদ্যু বিল এগ্রিকালচার হিসাবে ১টাকা ৭৫পয়সা ইউনিট রেট ছিল। কিন্তু বর্তমানে এগ্রিকালচার বিল বাদ দিয়ে বানিজ্যিক ভাবে ৮টাকা থেকে ১০ টাকা ইউনিট হিসাবে দিতে হচ্ছে। এসব কারনে মৎস্য চাষীরা ব্যায় বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। নানা জটিলতা থাকা সত্বেও জিএম এ্যাকোয়া কালচার নামের এই মৎস্য খামার দেশে মাছের চাহিদা পুরণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরিবেশের সাথে লড়াই করে অব্যাহত রেখেছেন বাজারজাত করণ মাছের উৎপাদন কার্যক্রম।
