খালেদ আহমেদ :
পাবনায় আশার আলো অটিজম চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শহরের গোপালপুর মুনসেফ বাবু রোডে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সামনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি মোজাম্মেল হক কবির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক কবির বলেন, আশার আলো অটিজম চাইল্ড কেয়ার সেন্টার একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও মানবিক প্রতিষ্ঠান। এখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের যেভাবে যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। নিয়মিত পরিচর্যা, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে এসব শিশু একসময় অনেক বেশি স্বাভাবিক জীবনযাপনে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পাশে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। আমাদের সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাবে এবং শিশুরা সুন্দর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মেরিনা ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। তিনি স্বাগত বক্তব্য দেন।
সিএনএফ টিভির চেয়ারম্যান খালেদ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান এবং মিরর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসাইন।
উপস্থিত ছিলেন ডা. দিলারা জামান, সমাজসেবক নজরুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন সুমাইয়া মিস। এরপর ‘ও আমার বাংলাদেশ’ গানের সঙ্গে শিশুদের নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সূচনা হয়। পরে শিক্ষকদের পরিচিতি পর্ব, অতিথিদের আসন গ্রহণ ও ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। পরে শিশুদের অংশগ্রহণে পৃথকভাবে আরও একটি কেক কাটা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিশুরা অভিনয়, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করে। তাদের পরিবেশনা উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে।
প্রতিষ্ঠানটির দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কথা বলা, স্বাভাবিক জীবনযাপনের দক্ষতা অর্জন, নিজের যত্ন নেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, হাতে-কলমে অক্ষর চেনা, লেখা শেখা, ছবি আঁকা, খাওয়া-দাওয়া এবং টয়লেট ব্যবহারের প্রশিক্ষণসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় কাজ শেখানো।
এ ছাড়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি সিসি ক্যামেরার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও।
