রাজনগরে সেলাই মেশিন বিতরণ না করেই ফটোসেশন

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৪নং পাঁচগাঁও ইউনিয়নে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় সেলাই মেশিন বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেলাই মেশিন না পেয়েও বিতরণ অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি। ভুক্তভোগী নাজমা বেগম (পাঁচগাঁও গ্রামের মায়া মিয়ার স্ত্রী) অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের ডাকে তাঁকে পরিষদের ভেতরে নেওয়া হয়। পরে একটি সেলাই মেশিন হাতে দিয়ে সেটি ধরে রাখতে বলা হয়। এ সময় তাঁর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। ফটোসেশন শেষে তাঁকে চলে যেতে বলা হয়। পরে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে। অথচ তিনি কোনো সেলাই মেশিন পাননি। এ ঘটনাকে প্রতারণা উল্লেখ করে দায়ীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ৪নং পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুবেল আহমদ রাসেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। যাঁদের সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ছবি তোলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য লাইলী বেগমের মাধ্যমে পাঁচটি এবং ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য সুবেজা বেগমের মাধ্যমে সাতটিসহমোট ১২টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন- ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুবেল আহমদ রাসেল, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. বাদশা মিয়া, সংরক্ষিত সদস্য লাইলী বেগম ও সুবেজা বেগম, তজমুল মিয়া, মনসুর মাস্টারসহ অন্যরা। তবে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ এবং চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় প্রকৃতপক্ষে কতজনকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে, বিতরণের তালিকায় কার কার নাম রয়েছে এবং নাজমা বেগমের ছবি কীভাবে বিতরণপ্রাপ্ত হিসেবে প্রকাশ করা হলো তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।