আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক (সুনামগঞ্জ):
সুনামগঞ্জের ছাতকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলে যোগ দিতে এসে দুই কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় ছাত্রদল ও জনতা। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
সিলেট থেকে মোটরসাইকেলযোগে এসে মানিকগঞ্জ বাজারের মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাদের। পরে স্থানীয় জনতা ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
গত রোববার গভীর রাতে সুনামগঞ্জ জেলা ও ছাতক উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই ঝটিকা মিছিল বের করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রোববার গভীর রাতে ছাতক উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অতর্কিতভাবে ঝটিকা মিছিলের বের করে নিষিদ্ধ সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীরা। সিলেট এবং সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তারা এই শোডাউন ও ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা চালায়।
গোপন সূত্রে এ খবর পেয়ে স্থানীয় সচেতন জনতা ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থান নেন। মিছিল চলাকালে উপজেলার জাতুয়া বোকারভাঙ্গা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে দুজনকে আটক করা হয়।
জানা যায়, আটককৃতরা সিলেট থেকে এসে ছাতক উপজেলার দক্ষিন খুরমা ইউপির মানিকগঞ্জ বাজারে অনুষ্ঠিত ওই ঝটিকা মিছিলে যোগদানের জন্য রওয়ানা হয়েছিল। মিছিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং সরকারবিরোধী বা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করতে চায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ঘেরাও করে আটক করেন এবং রাতেই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃতদের থানার হেফাজতে নেয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত দুই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
আটককৃত হলেন:রুমেল আহম্মেদ রুবেল: তার পিতার নাম মৃত আবুল খায়ের ওরফে পরবার এবং মাতার নাম রেজিয়া বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা বিরানী বাজার, বহিতেনাপুর (থানা: বিশ্বনাথ/বিরারামপুর, জেলা: সিলেট) এবং বর্তমান ঠিকানা জল্লারপাড় জিন্দাবাজার, কোতোয়ালি, সিলেট। সুমন আহম্মেদ: তার পিতার নাম আব্বাস আলী এবং মাতার নাম বেসিনা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা সবমঙ্গল (থানা: দোয়ারাবাজার/দিরাই, জেলা: সুনামগঞ্জ) এবং বর্তমান ঠিকানা শেখঘাট, সিলেট।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া ঘটনার পেছনে অন্য কারা জড়িত রয়েছে এবং ছাতক ও আশপাশের এলাকায় এ ধরনের নাশকতার কোনো বড় পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এব্যাপারে ওসি কামাল হোসেন এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ছাত্রলীগের দুজন গ্রেপ্তার সঠিক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এর প্রস্তুতি চলছে।
