ভাঙ্গুড়ায় ডিলারদের গুদামে মিলল তিন হাজার বস্তা সার

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চারজন ডিলারের গুদামে প্রায় তিন হাজার বস্তা সার মজুদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার গভীর রাতে ছাত্রদলের নেতাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযান চালিয়ে এসব সারের সন্ধান পান। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক বৈঠকে সার বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়। তবে ডিলারদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সময় বৈঠকে ছাত্রদলের নেতা ও কৃষকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বাগবিতণ্ডা হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলায় ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়া নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। ফলে বাধ্য হয়ে সার চোরাকারবারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। এ অবস্থায় গত কয়েকদিন ধরে ডিলারদের দোকানের সামনে অথবা উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের সার সংগ্রহ করতে দিনভর দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি উপজেলায় সারের ডিলার ইবনুল ট্রেডার্স, আকাশ ট্রেডার্স, কনক ট্রেডার্স ও রহমান ট্রেডার্স কয়েক হাজার সারের বস্তা বেশ কিছুদিন ধরে গুদামজাত করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর প্রেক্ষিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হুমায়ূন আহমেদ মুন, সদস্য সচিব লিখন সরকার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল রানা পিন্টু, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রফিকুল ইসলাম ও ছাত্রদল নেতা সেলিম খানের নেতৃত্বে কৃষকরা এসব গুদামের সামনে বুধবার রাতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সহকারী কমিশনার নুসরাত জাহান (ভূমি) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান ও থানার ওসি সাকিউল আজম এসব গুদামে উপস্থিত হন। পরে তালা খুলে এসব গুদামে প্রবেশ করে প্রায় তিন হাজার সারের বস্তার সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় স্থানীয় জনতা এসব সার কৃষকদের কাছে বিক্রির দাবি জানান। তবে কৃষি অফিস এসব সার উপজেলার বৃহৎ দুই ইউনিয়ন খানমরিচ ও দিলপাশারের কৃষকদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলেন।

ছাত্রদলের সভাপতি মুন সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে বলেন, কৃষকরা সার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন সরকার বিরোধী গোষ্ঠী। আর তার সমর্থন দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এটা প্রতিহত করা হবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, গুদামের এসব সার চলতি সপ্তাহে সংরক্ষণ করা হয়েছে। উপজেলার বৃহৎ খানমরিচ এবং দিলপাশার ইউনিয়নে সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই তাদের প্রয়োজন মেটাতে এগুলো বিতরণের জন্য মজুত রাখা হয়েছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু বিশেষ উদ্দেশ্যে এসব পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। কৃষকরা যথাসময়ে সার পাচ্ছেন ও আগামীতেও পাবেন।

ফটো ক্যাপশন: বিক্ষোভের সময় সহকারি কমিশনার ও কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলছেন ছাত্রদল নেতা মুন।