স্টাফ রিপোর্টার:
কারাবন্দী হওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সদ্যপ্রয়াত মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি হিরো। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ জাহানাবাদ গ্রামে তাঁর মা হাফিজা বেগম (৬২) এর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশের নিরাপত্তায় হাতকড়া পরিহিত অবস্থাতেই মাকে দাফন করেন তিনি।
এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ হাফিজা বেগম।
মায়ের মৃত্যুর পর মাশরাফি হিরোকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলে তিনি পুলিশের পাহারায় গ্রামে যান এবং জানাজায় শরিক হন। জানাজার আগে এক আবেগঘন পরিবেশে মাশরাফি হিরো বলেন, আমি এখন পর্যন্ত জানি না আমার মা কখন মারা গেছেন। আমি হয়তো তাঁকে দেখতে পারলাম, কিন্তু সে তো আমাকে দেখতে পারল না। সন্তান মাকে ভালোবাসুক আর না ভালোবাসুক, মা কিন্তু সন্তানকে ঠিকই ভালোবাসে। নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আমি আমার দায়িত্ব হয়তো সঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। এ জন্য আমি আমার মার কাছে ক্ষমাও চাইতে পারলাম না। আমার মা অনেক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ওষুধ আর হাসপাতাল করতে করতে তাঁর জীবনটা শেষ হয়ে গেছে। খুব কষ্টের জীবন তিনি পার করেছেন।
মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উপস্থিত সবার উদ্দেশে মাশরাফি হিরো বলেন, আমার মায়ের কথাবার্তায় আপনারা কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে দয়া করে নিজ গুণে তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন। আর আমার মায়ের কাছে যদি কারও কোনো আর্থিক পাওনা থেকে থাকে, তাহলে আমাদের জানাবেন। আমরা তা পরিশোধ করার চেষ্টা করব।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ নেতা মাশরাফি হিরো প্রায় ১৬ মাস ধরে কারাবন্দী রয়েছেন। মায়ের জানাজা শেষে পুলিশের পাহারায় তাঁকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
