যশোরে ৫ যুবককে ডাকাত সন্দেহে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

ইয়ানূর রহমান : যশোর সদরের বালিয়াডাঙা গ্রামে ডাকাত সন্দেহে পাঁচ যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। গতকাল মঙ্গলবার মধ্য রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রামজুড়ে বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রামের শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

আটককৃরা হলেন, যশোরের ঝিকরগাছার চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক বালিয়াডাঙা গ্রামে ঢোকেন এবং তারা এলাকার বিভিন্ন গলিতে ঘোরাঘুরি করতে থাকলে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ হয়।

একপর্যায়ে বালিয়াডাঙা বিসিক এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দেন। মান্দারতলা এলাকায় পৌঁছালে প্রাইভেটকারটি ফেলে যুবকরা বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পার্শ্ববর্তী মালোপাড়া এলাকা থেকে চারজনকে ধরে ফেলেন গ্রামবাসীরা। এ সময় মোটরসাইকেলসহ মোট পাঁচজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। স্থানীয়দের দাবি, তাদের দলে একজন নারীও ছিলেন, তবে তাঁকে আটক করা যায়নি।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক ব্যক্তিরা ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছেন। তাঁদের একজন দাবি করেন, এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা আদায় করতে তারা ওই গ্রামে গিয়েছিলেন। আরেকজন দাবি করেন, তাঁদের একজনের স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে এসেছিলেন কিন্তু গ্রামবাসী তাঁদের ডাকাত ভেবে ভুল করেছে। অন্য একজন জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাঁদের এই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে পুরো ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন জানান, প্রারম্ভিক তদন্তে তাঁদের ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেখানে সরাসরি কোনো ডাকাতির ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনগণ তাঁদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।#