আগৈলঝাড়া থানায় হামলা মামলা থেকে দুই সাংবাদিকের আগাম জামিন লাভ

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি :
আসামির মৃত্যুর গুজবে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, বাংলা টিভি ও মানবকন্ঠের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি এফএম নাজমুল রিপনসহ দুই সাংবাদিককে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন সুপ্রীম কোটের হাইকোর্ট বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি মো. সালিম ও বিচারপতি আসিফ হাসান-এর যৌথ বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ওই ২ সাংবাদিককে বরিশাল বিজ্ঞ জজ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন ওই আদালত। এ বিষয়টি আসামি পক্ষের আইনজীবি সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহিল মারুফ ফাহিম নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় ৪৩ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই/তিনশ’ লোককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভি ও মানবকন্ঠ প্রতিনিধি এফএম নাজমুল রিপনকে ২১ নাম্বার এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলামকে ২৩ নাম্বার আসামি করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক জানান, ওই দুই সাংবাদিক কেবল সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। পুলিশের বিরুদ্ধে নিউজ করার কারণে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করে ওই দুইজন সাংবাদিককে মামলায় জড়ানো হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে হয়রানির উদ্দেশ্যে ওই দুইজন সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি মাদকসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ টাকার বিনিময়ে ৩ জনকে ছেড়ে দিয়ে ১ জনকে আদালতে সোপর্দ করেন। এ সংবাদ যুগান্তরসহ ৪/৫টি দৈনিক পত্রিকা ও নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হলে থানা পুলিশ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এক বিএনপি নেতাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় জিডি দায়ের করানো হয়। ষড়যন্ত্র করে হয়রানির উদ্দেশ্যে ওসি আমাকে ওই মামলায় আসামি করে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহিরউদ্দিন স্বপন এমপিসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফ.এম নাজমুল রিপন বলেন, সম্প্রতি মাদকসহ প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদের জের ধরে ৩ মাদক বিক্রেতাসহ ৫ ব্যক্তিকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় ৫টি জিডি করানো হয়েছে। থানায় হামলার ঘটনায় আমরা প্রশাসনের পাশে থেকে নিউজ দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। তারপরও আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, তদন্ত শেষে এ মামলার এজাহারভুক্ত সকল আসামি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও ১৭ জনকে শনাক্ত করে সর্বমোট ৬০ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ আগস্ট বরিশাল আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দীগ্ধ আসামি হিসেবে রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। থানা হাজতে দেয়ালের সাথে রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পরে। এরপর তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রিয়াজ ফকির পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছে এমন গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পরলে আত্মীয়স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় হামলা, ভাঙচুর এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করে।