সুন্দরগঞ্জে পৈতৃক জমি জবরদখল ও মারপিটের অভিযোগ

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১৩ শতক জমি জোরপূর্বক দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ মরুয়াদহ মন্ডলের হাট এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম দক্ষিণ মরুয়াদহ মৌজায় তার দাদা দফির উদ্দিনের কাছ থেকে দলিলমূলে পাওয়া জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগে জমিটির তফসিলে দক্ষিণ মরুয়াদহ মৌজা, জে.এল. নং-৮১, ডিপি খতিয়ান নং-২১৭৮ এবং দাগ নং-৬৮১৪ ও ৬৮১৩ উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দুই দাগে মোট ৯০ শতক জমির মধ্যে ১৩ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী মোছা. হালিমা বেগম, মো. আব্দুল মজিদ, তার স্ত্রী মোছা. আয়না বেগম এবং মো. দুখু মিয়াসহ ভাড়াটিয়া কয়েকজন লোক তার জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘর নির্মাণ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে তার জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন এবং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের হুমকি দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুন বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিবাদীরা তার জমিতে টিনের চালা ঘর নির্মাণ করে জোরপূর্বক দখল নেন।

তারা আরও বলেন, জমি দখলে বাধা দিতে গেলে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

অভিযোগকারীর পরিবারের দাবি, জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিবাদীরা নিজেদের লোকজনের মাধ্যমে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন। এতে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা থাকায় যেকোনো সময় উভয় পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগকারী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, জমিটির মালিকানা ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলের পক্ষে আমার কাছে দলিল, রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। আমি চাই, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।