ওসমান গনি, বেড়া (পাবনা)
বর্ষার পানিতে পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের নিচু এলাকার ঘাসের জমিগুলো প্লাবিত হয়ে পড়ায় কাচা ঘাস (গো-খাদ্য) উৎপাদন কমে গেছে। কাচা ঘাসের অভাবে চর এলাকার অধিকাংশ গো-খামারিরা তাদের দুধেল গাভী গরুকে শুকনো খাবার খাওয়ানোর কারনে দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় খামারিরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
সম্প্রতি হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল চর নাকালিয়া, চর সাড়াশিয়া, হাটাইল-আড়ালিয়া,চর পাইখন্দ সহ বিভিন্ন চর এলাকা ঘুরে এবং গো-খামারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমের ২-৩ মাস এসব এলাকাত নিচু জমি গুলোতে বর্ষার পানি উঠে গো-খাদ্য কাচা ঘাসের জমি প্লাবিত হয়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। এ কারনে গবাদি পশুর কাচা ঘাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিশেষ করে দুধেল গাভী গরুকে খাদ্য হিসেবে ভূষি,খড় সয় অন্যান্য শুকনো খাবারের উপরই নির্ভর করতে হয়। শুকনো খাবার খাওয়ার কারনে দুধেল গরুর দুধ উৎপাদন অনেকাংশে কমে যায়। চর সাড়াশিয়া গ্রামের গো-খামারি আব্দুর রহমান মোল্লা বলেন, কাচা ঘাস দুধেল গরুকে খাওয়াতে না পারায় দুধের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। চর নাকালিয়া গ্রামের খামারি আবু সাইদ ফকির বলেন, তার খামারে প্রায় ২০ টি গবাদি পশু রয়েছে, তন্মধ্যে ৪ টি দুধেল গরু ১ মাস আগেও দু-বেলা মিলে প্রায় ৮০ লিটার দুধ দিত। কাচা ঘাস খাওয়াতে না পারায় বর্তমানে ৪ টি দুধেল গরু দুধ দিচ্ছে ৪০-৫০ লিটার। একই গ্রামের ময়লাল ফকির বলেন, তার ৩ টি দুধেল গরুকে বাড়ির পাশের জমিতে আবাদ করা কাচা ঘাস খাওয়ানোর কারনে এখনো দুধের উৎপাদন আগের মতোই আছে। চর সাড়াশিয়া গ্রামের দুধ ব্যবসায়ি কালু শেখ বলেন, কাচা ঘাসের অভাবে চরাঞ্চলে খামারিদের দুধ উৎপাদন অনেকটাই কমে গেছে। কিছুদিন আগেও চর এলাকা থেকে তার প্রতিদিন ৮-১০ মণ দুধ আসতো, বর্তমানে ৪-৫ মণ দুধ সংগ্রহ হচ্ছে। চর বাড়িয়াপাড়া গ্রামের পরেন ব্যাপারি বলেন, কাচা ঘাসের অভাবে বাজার থেকে শুকনো খাদ্য ভূষি, খড় কিনে দুধেল গরুকে খাওয়ানোর পর যে দুধ হয়, বাজারে সেই দুধ বিক্রি করে গরুর খাদ্যের দাম ওঠছে না। তিনি বলেন খামারিরা প্রতিদিন লোকসান দিতে দিতে অনেকেই গরু লালন পালন ও খামার চালাতে গিয়ে চরমভাবে হিমসিম খাচ্ছে। আবার অনেকেই খরচ পোষাতে না পেরে দুধেল গরু হাটে বিক্রি করে দেওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
এ প্রসংগে বেড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলের অনেক নিচু জমিতে পানি ওঠে যাওয়ায় এবং ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার কারনে কাচা ঘাস বিনষ্ট হয়ে যাওয়া সহ উৎপাদন কমে যায়। যার ফলে এ সময়টাতে দুধ উৎপাদন কিছুটা হ্রাস পেয়ে থাকে। কিছুদিন পর আবার কাচা ঘাস খাওয়ালে দুধের উৎপাদন পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
