‘বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই’

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন এবং এর সংখ্যালঘু মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই উদ্যোগকে ‘ফুটবলের আত্মা বিক্রির চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সাফ কথা; ‘ফুটবল বিক্রি করার অধিকার ফিফার নেই।’

বুধবার (২৯ জুলাই) কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘বাণিজ্যিক ও ইভেন্ট কার্যক্রম’ তত্ত্বাবধানের জন্য ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে সহায়ক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৪৮ দল নিয়ে সম্প্রতি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন করা ফিফা নতুন এই এন্টারপ্রাইজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখবে। তবে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে এতে ‘মাইনোরিটি শেয়ার’ বিক্রির প্রস্তাব দেবে।
ফিফা জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা এই প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে এই পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় উয়েফা। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় সংস্থাটি বলেছে, ‘এই প্রস্তাব এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা ফুটবলের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক ও সরকার, সবারই এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত।’

উয়েফা কঠোর ভাষায় বলেছে, ‘ফুটবলের আত্মা এবং এর পরিচালনা কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়, বিশেষ করে যখন আর্থিক লাভের ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছতা নেই। আমরা কেউ ফুটবলের মালিক নই। এটি বিক্রি করার অধিকার ফিফার নেই।’

অবশ্য ফিফা তাদের অবস্থানে অনড়। সংস্থাটির দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অবকাঠামো নির্মাণ, কোচিং, জাতীয় দল, তৃণমূল ফুটবল এবং নারী ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানোই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক ফিফা এবং ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার মধ্যে বিভেদকে আরও স্পষ্ট ও গভীর করে তুলেছে এই প্রস্তাবটি। ইউরোপ বরাবরই নিজেকে এই খেলার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তুলে ধরছে।

অপরদিকে ফিফা, একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে আর্থিক উদারতার মাধ্যমে এর সুযোগ প্রসারিত করার দিকেই মনোনিবেশ করছে।

জানা যায়, জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সভাপতি হওয়ার পর থেকেই ফিফা ও উয়েফার সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপের একাধিক ইস্যুতে দুই সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। এবার সেই দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করল ফিফার সর্বশেষ বাণিজ্যিক পরিকল্পনা।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও এই সমালোচনায় যোগ দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন যে, ফুটবল কোনো বিনিয়োগকারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না।

বার্নহ্যাম এক্সে লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ কোনো সাধারণ পণ্য নয়। এটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগিতা এবং এটি বিক্রি করার ক্ষমতা কারোরই নেই।’

তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘এই চুক্তিকে আপনি যেভাবেই সাজান না কেন, একবার যদি আপনি এর কোনো অংশ বিক্রি করে দেন, তবে আপনি ফুটবলের আদর্শকেই বিসর্জন দিলেন।’