সাঁথিয়া(পাবনা) প্রতিনিধিঃ
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার ও পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। সাঁথিয়ার আফতাবনগর জামে মসজিদে জোরপূর্বক ইমামতি করার চেষ্টা এবং এর জেরে সৃষ্ট সহিংসতায় এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় এ অভিযোগ আনা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সাঁথিয়া পৌর বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম। তিনি বলেন, সম্প্রতি সাঁথিয়ার আফতাবনগর জামে মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করাকে কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণ সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেনের জুমার নামাজে জোরপূর্বক ইমামতির চেষ্টা। মসজিদ কমিটির সদস্যরা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে তাঁরা এমপিকে কোনো দাওয়াত দেননি, ইমামতিও করতে বলেন নি। এ নিয়ে এমপি মিথ্যাচার করছেন।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, নিয়মিত ইমাম ও মসজিদ কমিটির অনুমতি ছাড়া এবং উপস্থিত মুসল্লিদের আপত্তি উপেক্ষা করে এমপি মোমেন জোরপূর্বক খুতবা ও ইমামতি করার চেষ্টা করেন। সাধারণ মুসল্লিরা এতে প্রতিবাদ জানালে সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, সংসদ সদস্যের অনুসারী ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
মসজিদের ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংসদ সদস্যের ইন্ধনে সাঁথিয়া বাজারের জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়ে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাহাত ব্যাপারিকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বিএনপি নেতাদের দাবি, এই হামলায় মুজাহিদ ফকির ও সাদ্দাম ফকিরসহ একাধিক ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁরা ছাত্রদল নেতা রাহাতের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, “রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য এমপির নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে সাঁথিয়ার বিভিন্ন মসজিদে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। আমরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধিতা করেছি এবং স্থানীয় মানুষও আমাদের সমর্থন জানিয়েছে। এখন বিষয়টি রাজনৈতিক রং দিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহকে জড়িয়ে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন এমপি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল, সাবেক আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বন্দে এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সরদার, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জাহিদুজ্জামান রিপন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক জিবন আহমেদসহ স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
