দলীয় সমর্থন পেলে নির্বাচন করবো—ওয়াহিদ মাস্টার

খালেদ আহমেদ :
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. ওহিদুর রহমান (ওয়াহিদ) মাস্টার।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “দল যদি আমার কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে সমর্থন দেয়, তাহলে আমি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। আর যদি দল আমার চেয়ে যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে প্রার্থী করে, তাহলে অবশ্যই দলের একজন কর্মী হিসেবে তাঁর পক্ষেই কাজ করবো।”
ওয়াহিদ মাস্টার আরও বলেন, “আমি ১৯৮৬ সাল থেকে ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছি। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমার কর্মসংস্থানে এক বছর বাধাগ্রস্ত হতে হয়েছে। শুধু বিএনপি করার কারণে আমার নামে এখনও চারটি মামলা চলমান রয়েছে।”
তিনি বলেন, “গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের পক্ষে আমি আমার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি এবং তার সফলতাও পেয়েছি।”
বিএনপিসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সব ধরনের ভুল-ত্রুটি ও বিভেদ ভুলে গিয়ে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং ভাঁড়ারা ইউনিয়ন বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আমি অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, নিজের দলের জন্য কাজ করতে চাই।”
তিনি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, ভাঁড়ারা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল খালেক মেম্বারও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন আমি দীর্ঘদিন ধরে ভাঁড়ারা বিএনপি’র আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছি। ইউনিয়ন বিএনপিকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি। তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীর পাশে থেকেছি। বিভিন্ন সময়ে মামলা মোকদ্দমায় গ্রেপ্তার হয়েছি । দল আমাকে সমর্থন দেবেন আমি বিশ্বাস করি। দলের নেতাকর্মী আমার সাথে আছে।
এ বিষয়ে ভাঁড়ারা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব তফিজ উদ্দিন (৫০), থানা বিএনপির সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম (৪০) এবং ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি আব্দুল আলিম বিশ্বাস (৫৫) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই ইউনিয়নে বিএনপির কোনো প্রার্থী আমরা পাইনি। তাই এবার জেলা বিএনপি ও মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের কাছে আমাদের দাবি—সৎ, শিক্ষিত, যোগ্য, মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশার খোঁজ নেন—এমন একজন প্রার্থী দেওয়া হোক। তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আমরা রাত-দিন পরিশ্রম করে তাঁর বিজয় নিশ্চিত করবো, যেভাবে আমাদের ইউনিয়নে এমপি শিমুল বিশ্বাসকে বিজয়ী করেছি।”
এ সময় উপস্থিত প্রায় ২০ থেকে ২২ জন নেতাকর্মী উচ্চস্বরে “ঠিক, ঠিক” বলে তাঁদের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।