সুন্দরগঞ্জে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ধস, হুমকিতে ১৫ ইউনিয়নের লাখো মানুষ

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মওলানা ভাসানী সেতু এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ধস ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণের কারণে বাঁধটির অন্তত ৫০টি স্থানে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বড় ধরনের বন্যা হলে প্রবল পানির স্রোতে বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে। এমনটি ঘটলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের লাখো মানুষ জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়তে পারেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ফুল মিয়ার মোড় থেকে লালচামার পর্যন্ত বাঁধের অংশ। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের ফুল মিয়ার বাজার এলাকার বাসিন্দা ইউনুস আলী বলেন, বাঁধটি নির্মাণের পর আর কোনো বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে বছরের পর বছর মাটি ধসে এখন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বন্যার সময় বাঁধ ভেঙে লাখো মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

লালচামার গ্রামের জালাল মিয়া বলেন, বাঁধে এত বেশি গর্ত হয়েছে যে এখন যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। বর্তমান অবস্থায় বড় বন্যা এলে বাঁধটি যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, বাঁধটি নির্মাণের পর আর উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের কারণে বাঁধটি এখন হুমকির মুখে। এটি ভেঙে গেলে ১৫টি ইউনিয়নের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ১৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির অবস্থা বর্তমানে ভালো নয়। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন হওয়ায় এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও ধসের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর বিষয়ে আমরা অবগত আছি। সংস্কার ও মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ শুরু করা হবে।