হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মওলানা ভাসানী সেতুর চিলমারী প্রান্তে আর্চ ব্রিজের সংযোগ সড়কে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় সড়কটি আরও ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা ভারী বর্ষণের কারণে আর্চ ব্রিজ সংলগ্ন সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মওলানা ভাসানী সেতুর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বালুভর্তি বস্তা ফেলে গর্তের চারপাশে অস্থায়ীভাবে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে ঝুঁকি এখনও কাটেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতাল মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে আর্চ ব্রিজের পাশে বড় গর্ত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন এ পথ দিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত মেরামত না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরও জানান, সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এটি দেখতে আসছেন। এমন অবস্থায় সংযোগ সড়কের ক্ষতি উদ্বেগজনক।
ঢাকা থেকে সেতু দেখতে আসা দর্শনার্থী তাছলিমা বেগম বলেন, ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে নির্মিত আর্চ সেতুর পাশে এমন গর্ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এখন সেটিও নিরাপদ নয়। মাত্র দেড় বছরের মধ্যে এমন ক্ষতি হওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ঢাকাগামী বাসচালক আন্জু মিয়ার বলেন, ব্রিজের পাশেই বাঁকের মধ্যে গর্ত হওয়ায় বড় যানবাহন পারাপার খুবই কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাস চলাচল ব্যাহত হতে পারে।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কে এত অল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের গর্ত সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক। কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত স্থায়ীভাবে গর্তটি মেরামতের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে বালুর বস্তা দিয়ে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে লোকও নিয়োজিত রয়েছে। খুব শিগগিরই স্থায়ীভাবে মেরামতের কাজ করা হবে।
