জসীমউদ্দিন ইতি, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে উপজেলার ১৮টি প্রকল্পের কাজ এবং অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিয়ম ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রকল্পের সদস্য সচিবরা এবং স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবক মাসুদ রানা।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার আব্দুল সালাম বলেন, এলাকার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পের কাজ শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে করা হচ্ছে। জনগণের টাকা নিয়ে কোনো নয়ছয় বরদাশত করা হবে না। মাঠপর্যায়ে কাজ চলমান রয়েছে এবং যারা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তারা মূলত এলাকার উন্নয়ন চায় না।
সম্প্রতি একটি পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, ৪৫ লাখ টাকার কাজ শুরুর আগেই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং প্রকল্প কমিটির সভাপতিরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মাসুদ রানা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে সভাপতি ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। তাই সভাপতিরা জানেন না—এমন তথ্য ছড়ানো সম্পূর্ণ হাস্যকর ও অবান্তর। ব্যাংক চেকের মাধ্যমে নিয়ম মেনেই টাকা তোলা হয়েছে এবং তা মাঠপর্যায়ের কাজের গতি বজায় রাখতেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাসুদ রানা আরও বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং রাজনৈতিকভাবে আমাদের পরিবারকে হেয় করতেই একটি পক্ষ মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র আড়াল করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি পয়সার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন প্রকল্প কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তারা কমিটির দায়িত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী চেকে স্বাক্ষর করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিজেদের ফায়দা লুটতে এবং সাধারণ সদস্যদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির অপচেষ্টায় এই ধরণের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চন্দন কর বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বা কাজ না করে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ এখানে নেই। প্রতিটি প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ের কাজ শেষেই বিধি মোতাবেক চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রেও জানা গেছে, সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই ১৮টি প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও তদারকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
