জসীমউদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের অন্তর্গত হরিপুর উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মো: আব্দুস সালাম। দুর্নীতি ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারেক রহমানের বাংলাদেশে কোনো ধরনের অন্যায়, দুর্নীতি এবং অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না—সে যত বড়ই হোক না কেন।
আজ (১২ জুলাই) বিকালে প্রথমে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি সতর্কবার্তা পোস্ট এবং পরবর্তীতে মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তিনি নিজের পরিবারকেও ছাড় দিতে প্রস্তুত নন।
ফেসবুক পোস্টে তদন্তের নির্দেশ ও কঠোর বার্তা
জানা গেছে, সম্প্রতি হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু ফেসবুক পোস্ট ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। বিষয়টি ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো: আব্দুস সালামের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেন।
মাননীয় সংসদ সদস্য বলেন,
আমার নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-২ আসনের হরিপুর উপজেলায় প্রকল্পের বরাদ্দ সম্পর্কিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ, যারা বিষয়টি নজরে এনেছেন। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমার নাম ভাঙিয়ে অথবা আমার নাম ব্যবহার করে যদি কেউ অনিয়ম করে, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি ওই পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যেই নজরে আসা বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। যদি তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তবে অপরাধীর রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত পরিচয় যাই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের মানুষ যে আমানত ও দায়িত্ব তাঁর ওপর সঁপেছেন, তা সততার সাথে পালন করার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টের পর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য ডা. মো: আব্দুস সালাম আরও দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শন এবং দলীয় শৃঙ্খলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,
এমনকি আমার নিজের পরিবারের কেউ যদি বিএনপির বদনাম হয় এমন কোনো কাজ করে, তবে তার বিরুদ্ধেও আমি কঠোর ব্যবস্থা নেব। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, আমরাও ঠিক সেইভাবে মাঠপর্যায়ে সততার সাথে কাজ করে যাব। সেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করতে দেওয়া হবে না।
এমপি ডা. সালাম আরও বলেন, তৃণমূলের সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকা যেন সঠিক খাতে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। কোনো সিন্ডিকেট বা সুযোগসন্ধানী মহল যেন তাঁর নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটতে না পারে, সে জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।
সংসদ সদস্যের এমন যুগান্তকারী ও কঠোর বিবৃতির পর পুরো ঠাকুরগাঁও জেলা এবং বিশেষ করে হরিপুর উপজেলায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে নিজের পরিবার ও দলের ঊর্ধ্বে উঠে এমন শক্ত অবস্থান নেওয়ার নজির সচরাচর দেখা যায় না উল্লেখ করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, সচেতন মহল এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এমপি ডা. আব্দুস সালামের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এমপির এই কঠোর বার্তার পর সরকারি প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং যারা সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তারা পিছু হটতে বাধ্য হবে। সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে নিয়ে আসায় সংসদ সদস্য কর্তৃক সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনকেও ইতিবাচক ও গণমাধ্যমবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।
