ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, ছাতকে বিক্ষোভ

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার তালিকায় অকৃষক ও অক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রকৃত কৃষকরা। বিভিন্ন ইউনিয়নে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় হাওরের পাকা বোরো ধান তলিয়ে যায়। পাশাপাশি কাটা ধান শুকাতে না পারায় পচে নষ্ট হয় এবং গোখাদ্য খড়েরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দিতে সরকারের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ তালিকা প্রস্তুত করে।
উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে প্রায় ২ হাজার ১৮৬ জন কৃষকের নামের তালিকা পাঠানো হলেও অনুমোদন পায় মাত্র ১ হাজার ৯৪ জনের নাম। এসব কৃষককে নগদ ৩ হাজার টাকা এবং ১৫ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকের নাম তালিকায় না থাকায় এলাকায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার কালারুকা ইউনিয়নের রায়ত গ্রামে বঞ্চিত কৃষকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর আগে শাল্লা উপজেলাতেও একই দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। এমনকি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে কৃষকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।
উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা মুজাহিদ আলী হিরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসকের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি করে কয়েকজন অক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ খুরমা এলাকার বিএনপি নেতা আব্দুল খালিক বলেন, “যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তারা বাদ পড়েছেন, আর যাদের কোনো ক্ষতি হয়নি তাদের নাম তালিকায় রয়েছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উসমান গণি বলেন, “আমার অর্ধেক জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়েছে। অথচ আমার নাম তালিকায় নেই। টাকা খেয়ে অনেকের নাম দেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম খান বলেন, “প্রাথমিকভাবে পাঠানো তালিকা থেকে আংশিক ক্ষতিপূরণের জন্য কিছু কৃষককে বাছাই করা হয়েছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।”
প্রকল্প কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, কৃষি বিভাগের দেওয়া তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন বলেন, “আমার যোগদানের আগে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”