ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মীরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য লিচু উৎসব ও কৃষি-বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সকালে মেলার উদ্বোধন এবং বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল কিতাব মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এমপি এবং পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
সকালে মেলার উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাজাহান পিপিএম (বার), পাবনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. সুফি উল্লাহ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. সোয়াইব এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোখলেছুর রহমান বাবলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ কৃষক সমিতির উপদেষ্টা আলহাজ খায়রুল ইসলাম সরকারের কাছে কৃষি ও লিচু খাতের উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঈশ্বরদী বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা, লিচু গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লিচুর প্রতীকী ভাস্কর্য নির্মাণ, লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপন।
কৃষক নেতারা বলেন, দেশের কৃষকরা নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত কৃষকদের পরিবারকে আরও বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি কৃষকদের উন্নয়ন ও কল্যাণে সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।
বক্তারা বলেন, ঈশ্বরদীর মাটি ও আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দেশের অন্যতম বৃহৎ লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে ঈশ্বরদীর সুনাম রয়েছে। চলতি মৌসুমে এখানকার লিচু বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তারা আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে লিচুর জন্য দিনাজপুরের নাম থাকলেও বর্তমানে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হচ্ছে, যেখানে দিনাজপুরে আবাদ হয় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে। এ বাস্তবতার আলোকে পাঠ্যপুস্তকে লিচুর প্রধান উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে ঈশ্বরদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, লিচুর সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি সুবিধা সম্প্রসারণে ঈশ্বরদীতে আধুনিক মানের একটি হিমাগার স্থাপন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়।
