ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক: সংরক্ষিত আসনে কেন নাজমা পারভীন ?

জসীমউদ্দীন ইতি

রাজনীতি যখন কেবল ড্রয়িংরুম কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়। কিন্তু যখন রাজনীতির মাঠ থেকে উঠে আসা কোনো লড়াকু সৈনিকের নাম আলোচনায় আসে, তখন তৃণমূলের কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। ঠিক তেমনি এক সময়োপযোগী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন ঠাকুরগাঁও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও হরিপুর উপজেলার সাবেক জনপ্রিয় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাবা নাজমা পারভীন। আসন্ন সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে দেখার যে জোরালো দাবি উঠেছে, তা কেবল একটি রাজনৈতিক গুঞ্জন নয়, বরং এটি ঠাকুরগাঁওয়ের গণমানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন।

নাজমা পারভীনের রাজনৈতিক জীবন কোনো আকাশ থেকে পড়া গল্প নয়। তিনি ধাপে ধাপে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। হরিপুর উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী হিসেবে তিনি সীমান্তবর্তী এই জনপদের নারীদের রাজনীতিতে আগ্রহী করে তুলেছিলেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো হরিপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে তার জয়লাভ। প্রত্যক্ষ ভোটে জয়ী হওয়া একজন জনপ্রতিনিধি যখন সংরক্ষিত আসনের জন্য আলোচনায় আসেন, তখন বুঝতে হবে তার ভিত্তি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির রাজনীতিতে গত এক দশকে যে অস্থিরতা ও প্রতিকূলতা গিয়েছে, সেখানে নাজমা পারভীন ছিলেন এক অকুতোভয় নাম। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সম্মুখভাগে দেখা গেছে। বিশেষ করে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি ইউনিটকে সুসংগঠিত করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের নামে মামলা-হামলা কিংবা প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে তিনি যেভাবে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তাকে কেবল একজন নেত্রী নয়, বরং বড় বোনের মতন আস্থার জায়গায় নিয়ে গেছে।

সংরক্ষিত নারী আসন অনেক সময় কেবল কোটা পূরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন একজন প্রতিনিধি প্রয়োজন যিনি এলাকার প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জের রাস্তাঘাট চেনেন, যিনি মানুষের অভাব-অভিযোগ নিজের কানে শুনেছেন। নাজমা পারভীন যেহেতু জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই প্রশাসনিক কাজ এবং জনগণের অভাব দূর করার কৌশল তার নখদর্পণে।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনসহ পুরো জেলায় মহিলা দলকে পুনর্গঠন এবং নারী ভোটারদের মাঝে বিএনপির আদর্শ ছড়িয়ে দিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তাকে নিয়ে যে ইতিবাচক সংকেত বা ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়া যাচ্ছে, তা মূলত তার নিরলস পরিশ্রমেরই স্বীকৃতি। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের মতে, আমরা এমন একজনকে সংসদে দেখতে চাই, যাকে বিপদে-আপদে কাছে পাওয়া যায়। নাজমা পারভীন সেই আস্থার নাম।

ঠাকুরগাঁওয়ের নারী নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে এবং প্রান্তিক মানুষের কথা জাতীয় সংসদে বলিষ্ঠ কণ্ঠে পৌঁছে দিতে নাজমা পারভীনের বিকল্প কমই আছে। তিনি কেবল একজন দলীয় নেত্রী নন, বরং তিনি অবহেলিত নারী সমাজের কণ্ঠস্বর। কেন্দ্রীয় হাই-কমান্ড যদি মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করার নীতি গ্রহণ করে, তবে নাজমা পারভীন হবেন ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য এক অনন্য উপহার।

পরিশেষে বলা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন এবং রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের স্বার্থে নাজমা পারভীনের মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বকে সামনে আনা এখন সময়ের দাবি। জেলা বিএনপির এই ‘গ্রিন সিগন্যাল’ যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা হবে ঠাকুরগাঁওয়ের তৃণমূল রাজনীতির এক বড় বিজয়।