আগৈলঝাড়ায় ফুটপাত দখল করে দোকানপাট: পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিতে

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমীর সামনে ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দোকানী ও ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য আগৈলঝাড়ার প্রধান সড়কে গাঁ ঘেঁষে তৈরি হয়েছে ফুটপাত। সেই ফুটপাত এখন অস্থায়ী দোকানী ও ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের দখলে। ফলে ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেনা পথচারীরা। ফুটপাতে দোকানপাট থাকায় অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে চলাচল করতে হয় পথচারীদের। এতে একদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আগৈলঝাড়া ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমির সামনের অধিকাংশ জায়গা ফুটপাতই দখল করে অনেককে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ ফুটপাত দখল করে নানান পণ্যের দোকান সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ফুটপাত ধরে যাতায়াতে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এছাড়া এসব দোকানে ক্রেতাদের ভীড় বাড়লে ফুটপাত ধরে হাঁটার উপায় না পেয়ে সড়কে নামতে দেখা যায় পথচারীদের। অধিকাংশ ফুটপাতে ফলের দোকান, ভ্রাম্যমান খাবারের দোকান দেখা গেছে।
পথচারীদের অভিযোগ, এসব দোকানের কারণে ফুটপাত রেখে ঝুঁকি নিয়ে প্রধান সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আবার প্রধান সড়কেও অনেক ছোট-বড় দোকান থাকায় সড়কগুলো ক্রমশ: সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেখানেও হাঁটার সময় ছোট বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে তাদের।
ফুটপাত রেখে সড়কে হাঁটছেন কেন- এমন প্রশ্ন করা হলে পথচারী অবুল কালাম বলেন, ‘ফুটপাত দিয়ে কিভাবে হাঁটব? দোকানের জন্য কি আর সে উপায় আছে? বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলাচলের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়।’
দুলাল হোসেন নামের এক পথচারী বলেন, ‘ফুটপাত তো হকারদের জন্য, আমাদের জন্য না। যদি আমাদের হতো তাহলে এভাবে দখল করে ব্যবসা করতে পারতো না কেউ? আমরা পথচারীরা হাঁটার জায়গা পাই না, আর এরা ফুটপাত দখল করে বসে আছে। এদের কারণে আমরা ফুটপাত রেখে রাস্তায় নামতে বাধ্য হই। আর বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। কোনো সরকারই এগুলো দেখে না। ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করতে কেউই উদ্যোগ নেয় না।’
এদিকে ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসার বিষয়ে কথা বলতে নারাজ দখলদার ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রত্যেককেমাসিক চুক্তিতে চাঁদা দিতে হয়। আর এর বিনিময়ে অবৈধভাবে ফুটপাতে নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা করার অনুমতি মেলে।
বিগত সময় কয়েকবার ফুটপাত অবৈধ দখলদারমুক্ত করতে দফায় দফায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু অভিযান শেষ হতে না হতেই আবার ম্যানেজ করে দোকান সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের।
বর্তমানে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কোন ধরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে- এবিষয়ে জানতে চাইলে আগৈলঝাড়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাগর হাওলাদার বলেন, বাজার কমিটির পক্ষ থেকে আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ।
এবিষয়ে আগৈলঝাড়া বিএইচপি একাডেমীর প্রধান শিক্ষক যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রী জানান, স্কুলের সামনের অংশ যারা অবৈধভাবে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওখানে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে।
এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ সরদার ফুটপাথ দখল করার বিষয়ে সাংবাদিকদের ফুটপাত দখলের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদের পুনর্বাসন জন্য আমরা জায়গা দেখছি। জায়গা পেলেই দ্রুত তাদের স্থানান্তর করা হবে।