সাঁথিয়ায় সোতি জালে পানি নিষ্কাশনে বাধা, পাকা ধান পানির নিচে, পেঁয়াজ চাষে দুশ্চিন্তা

আবু ইসহাক, সাঁথিয়া (পাবনা)ঃ
সারা দেশের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ পেঁয়াজ চাষ হয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায়। সোতি জালে পানি নিষ্কাশনে বাধায় জমির পাকা ধান পানির নিচে রয়েছে অন্য দিকে সময়মত পেঁয়াজের চাষ করতে পারছেনা কৃযক। অন্য রবিশস্যের আবাদ করতে পারছেন না।

কৃষকের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাগেশ্বরী নদীকে ১৯৯২ সালে প্রধান নিষ্কাশন খালে (ডি-২) রূপান্তরিত করা হয়। এই নদীর সঙ্গে সংযোগ রয়েছে উপজেলার অন্তত ১৫টি বিলের। বর্ষা মৌসুমে এসব বিলসহ উপজেলার নিচু এলাকার পানি ওই খালের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এসব খালে আমন ধান কেটে পেঁয়াজসহ রবিশস্যের আবাদ করা হয়।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাগেশ্বরী নিষ্কাশন খালে বসানো হয়েছে অবৈধ সোতিজালের ঘের। উপজেলায় করমজা ইউনিয়নে বড়গ্রাম দত্তপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান নিষ্কাশন খালের জায়গায় বাঁশ, তালাই, পলিথিন দিয়ে ঘের তৈরি করে সোতি জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়ায় উপজেলার অন্তত ১৫টি বিলের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার বিঘা আমন ধান পানির নিচে রয়েছে। এসব জমিতে ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। ফলে সেখানে পেঁয়াজসহ অন্য রবিশস্যের আবাদ করতে পারছেন না কৃষক।

কৃষকেরা জানান, প্রতিবছর অক্টোবরের শেষের দিকে জমি থেকে পানি নেমে যায়। কিন্তু এ বছর উপজেলার নন্দনপুর, গৌরীগ্রাম, করমজা, কাশীনাথপুর ও ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ২৫টির বেশি গ্রামের প্রায় ১৫ -২০ হাজার বিঘা আমন ধানের জমিতে এখনো ১ থেকে ৬ ফুট পানি জমে আছে। উপজেলার আফড়া গ্রামের কৃষক নেকবার সরদারসহ অনেকে বলেন, পেঁয়াজ আবাদের সময় পার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জমিতে পানি থাকায় আমাদের গ্রামের কেউই তা আবাদ করতে পারছি না। তা ছাড়া জমির আমন ধান পাকার পরে তাও কাটতে পারছি না। ধান কেটে পেঁয়াজের বীজতলা করবে ও পেঁয়াজ চাষ করবে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে আবাদ করতে পারবেনা তারা।
কৃষকেরা আরো জানান, সোতি জালের ঘের নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রভাবশালী। ফলে ভয়ে তাঁরা ঘেরমালিকদের কিছু বলতে পারছেন না। প্রশাসনের উদ্যোগে ঘেরগুলো উচ্ছেদ করার দাবি জানান তাঁরা।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সামসুর রহমান জানান, আমরা এই সোতি জালের কথা শুনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাল কেটে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করি। তারা তিন দিনের মধ্যে সকল বাঁশ অপসারণ করে নেবে বলছিল। যদি সেটা না করে তাহলে আমরা আবার ব্যবস্থা নিবো।

সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী বলেন, এই সোঁতি জালের কারনে পানি নামতে সময় লাগবে যার প্রভাব কৃষকদের ফসলের উপর পরবে। তাই এই সোঁতি অতি জরুরী ভিত্তিতে অপসারণ করা দারকার।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিজু তামান্না বলেন, গত দিনে এসি ল্যান্ডকে পাঠানো হয়েছিল, তারা সময় চেয়েছে। অতিদ্রুত তারা নিজেরা অপসারণ না করলে মৎস্য অফিসার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রশাসন একসাথে অভিযান করে উচ্ছেদ করা হবে।