আমাদের ঢাকা শহর

ফারজানা তৈয়ূব

শহরখানা ঢেকে গেছে অট্টালিকার ভীড়ে
আকাশটা আজ মুক্তি খুঁজে হাস ফাঁস বুক চিরে।
নেই গাছ, নেই জলাশয়, আস্ত একটা ভাগাড়,
মানুষগুলো যেনো গোয়ালে বসে দিন করছে পাড়।
সুস্থ জীবন যাপন এখন বাদ দিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা,
কে কার আগে করবে দখল হামলে পড়েছে আবাল,বৃদ্ধ,বনিতা।
একটুখানি শ্বাস নেওয়ার জায়গার বড্ড অভাব,
হাতিরঝিল তাই শেষ সম্বল দম ফেলে চলবার।
এতো দালান এতো কোঠা সৌন্দর্য হারিয়েছে শহর,
রাস্তায় বের হলেই টেনশন বাড়ে আজব সব কারবার।
যানজট আর গরম বাড়ছে দিনদিন সমানতালে,
সময়মতো কোথাও পৌঁছাতে হাজার ঝক্কি চলে।
মানুষ কেমন যেনো মিয়ে গেছে আস্ত একেকটা যন্ত্র,
চাবি দিতেই নড়েচড়ে নাহলে কাজ বন্ধ।
রাস্তা, ফুটপাত আর সব ইটবালুর দখলে,
একজনকে দেখে আরেকজন করে অভ্যস্ত সবাই নকলে।
নদীগুলো আর নীচু জায়গা দখল হয়েছে বহু বহু আগে,
তীব্র দাবদাহে অসহ্য ছটফট একটা জলাশয় তো লাগে?
ম্যানহোলের ঢাকনাগুলো হিরুইঞ্চির বাপ করেছে দান,
যখন খুশি উধাও;ঠিকানা ভাঙারির দোকান।
সারাবছর রাস্তা খুঁড়াখুঁড়ি এখন পুরনো কালচার,
আজ ম্যানহোল তৈরি অপটিক ফাইবার লাইন বসবে পরেরবার।
ধান্ধাবাজির কবলে পরে জনজীবন নাকাল,
কেজানে কবে কাটবে এই জনদুর্ভোগের কাল?