পাবনায় অধ্যাপক তুলসির বাসায় ডাকাতি ও হামলা-সর্বত্র নিন্দার ঝড়

নিজেস্ব প্রতিনিধি পাবনা

পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষক, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক জহরলাল বসাক তুলসি গতকাল রোববার (২৭ জুলাই) দুপুরে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের বর্বর হামলার শিকার হয়েছেন। শিবরামপুর এলাকার তার নিজ বাড়িতে এ হামলার ঘটনায় জেলার শিক্ষামহলসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ২২-২৪ বছর বয়সী দুইজন মুখোশধারী যুবক বাড়িতে ঢুকে পরিবারের নারীদের বেঁধে ফেলে। পরে বিকেল চারটার দিকে অধ্যাপক তুলসি বাসায় ফিরলে তাকে মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে। দুর্বৃত্তরা একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

বাড়ির আলমারি ভেঙে ডাকাতির চেষ্টা চালানো হয়, তবে মূল্যবান কিছু পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তুলসির বাড়ির চারপাশে বহু ফাঁকা ও পরিত্যক্ত জায়গা থাকায় সেখানে প্রায়ই কিছু যুবক মাদকসেবনে লিপ্ত থাকে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এই হামলার ঘটনায় অধ্যাপক তুলসি গুরুতর আহত হলেও চিকিৎসা গ্রহণ করে বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি মাথায় ব্যান্ডেজ করে বিশ্রামে রয়েছেন। আশ্চর্যজনকভাবে, তিনি এ বিষয়ে পুলিশি বা প্রশাসনিক সহায়তা চাননি, এমনটাই জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন— বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাবনা জেলা নায়েবে আমির প্রিন্সিপাল ইকবাল হুসাইন পাবনা জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি মোজাম্মেল হক কবির ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন পাবনার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক এস. এম. মাহবুব আলম

তারা একযোগে বলেছেন, “শিক্ষার আলো ছড়ানো একজন নিরীহ প্রবীণ শিক্ষকের ওপর এই বর্বর হামলা শুধু এক ব্যক্তির ওপর নয়, সমাজের বিবেকের ওপরই এক নির্মম আঘাত। এমন ঘটনা আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই দুঃসহ ঘটনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে সাধারণ জনগণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে চলেছেন। অনেকে বলছেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত সম্মানিত শিক্ষকও যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে?