নাটোর প্রতিনিধি.
নাটোরের সিংড়ায় কবুতর খামারে অভিযান চালিয়ে আটটি টিয়া উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৮ টায় পৌর শহরের মাদারিপুর মহল্লায় হুজাইফার কবুতর খামারে অভিযান পরিচালনা করে পাখিগুলো জব্দ করা হয়। পাখি ব্যবসায়ী পালিয়ে গেলেও আর কোন দিন খামারে দেশীয় পাখি কেনা-বেচা করবে না মর্মে তার পিতা আব্দুল খালেক এর কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়।
উদ্ধারকৃত পাখিগুলো উপজেলার সংরক্ষিত এলাকায় অবমুক্ত করেন ইউএনও মাজহারুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বন্যপ্রাণি ব্যবস্থপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির, সিংড়া থানার উপ-পরিদর্শক বখতিয়ার, চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান, বন্যপ্রাণি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আলীম খাজা প্রমূখ।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, চলনবিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদারিপুর মহল্লায় একটি কবুতর খামারের আড়ালে দেশীয় টিয়া পাখি কেনা-বেঁচা হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটটি টিয়া পাখি জব্দ করেন রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। পরে পাখিগুলো মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়ে খামার মালিককে। এর আগেও এই খামারে অভিযান পরিচালনা করে ময়না ও টিয়া পাখি উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন।
রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, চলনবিলে পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তার দপ্তর সব সময়ই তৎপর।
ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছে যারা প্রকৃতির এই সৌন্দর্য্য পাখি গোপনে কেনা-বেচার সাথে জড়িত। এখানে চলনবিলের পাখি সংরক্ষণ কমিটির সদস্যা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিলের পাখি বাঁচাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অসাধু পাখি ব্যবসায়ীদের কঠিন শস্তির আওতায় আনা হবে।
