লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ
নাটোরের লালপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের তান্ডবে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি কর্মী আশিকসহ ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুয়ারিয়া ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আশিক অভিযোগ করে বলেন দীর্ঘদিন থেকে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিএনপি সমর্থক রুস্তম আলীর ছেলে রুবেলের সাথে ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী খোরশেদ ও শাহ আলমের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আনছার আলী সালিশ করে মিমাংসার চেষ্টা করেন। এঘটনার জের ধরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খোরশেদ ও শাহ আলমের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রসহ তার লোকজন নিয়ে ৪টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ফেরদৌসীকে ও আনিছুরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং আরিফের পায়ের রগ কেটে দেয়।
এসময় ঘরের আসবাবপত্রসহ ২টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে স্বর্ণ অলংকার সহ নগদ ১০লক্ষ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়।
আহত ফেরদৌসী জানান আমার কি অপরাধ ছিল যে, আমাকে তারা বিনা কারণে এমন করে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করল। গত ৫ই আগস্টের আগে বিএনপি করার কারণে এই মার খাইলে সহ্য করতে পারতাম। কিন্তু বিএনপি করার কারণে যদি এখনো আওয়ামী লীগের নিকট মার খেতে হয় তাহলে মরে যাওয়ায় ভালো ছিল। এঘটনার পর বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা এখন পর্যন্ত আমাদের পরিবারের আহতদের ব্যাপারে কোন খোঁজ খবর নেয় নাই।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বাড়ি গেলে তাদের পাওয়া যায় নাই । ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্নগোপনে আছেন বলে জানা যায়।
৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল জানান খোরশেদ, শাহ আলম, সাইফুল, ডাবলু, শাহিদ জসিম সকলে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। তবে এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেন নাই।
দুয়ারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণত সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান একাধিক মাদক মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ সমর্থক খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে বিএনপি সমর্থক সাবেক মেম্বার আনছার আলীর বাড়িসহ ৪টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে তারা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
রুবেল জানান এঘটনায় লালপুর থানায় ৩৪জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার এস.আই আলিম বলেন এঘটনায় একাধিক মাদক মামলার আসামি খোরশেদ আলমসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। আসামিদের আটকের ব্যাপারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।