সীমান্তে’একদিনে ৭১ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদক ও পণ্য আটক

ইয়ানূর রহমান : সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে ৪৯ বিজিবির অব্যাহত সাড়াশি অভিযানে প্রতিদিনের তুলনায় সোমবার দিনব্যাপী ৭১ লক্ষ ৩৮ হাজার ২০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণে চোরাচালানী মাদক ও পণ্য সামগ্রী আটক হয়েছে।
বেনাপোল বিওপি, আইসিপি ক্যাম্প, আমড়াখালী চেকপোস্ট ও শাহজাদপুর বিওপির
বিজিবি সদস্যরা তাদের দেড় মাসের আটক অভিযানের সফলতায় তুলনামূলকভাবে
চোরাচালানীদের বড় চালান আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
আটককৃত মাদক ও পণ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় ফেন্সিডিল, শাড়ী,
কম্বল, পোশাক, কিসমিস, চকলেট, সন-পাপড়ী, ঔষধ এবং কসমেটিক্স রয়েছে।
একদিকে, চোরাচালানীরা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় প্রতিদিন ভারত থেকে
অবৈধ সীমান্ত পথ পাড়ি দিয়ে ও আর্ন্তজাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল স্থলবন্দর
ব্যবহার করে এসকল পণ্য সামগ্রী দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসছে, অন্যদিকে
পাঁচারকারিদের রাতারাতি পুঁজিপতি হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ করে দিয়ে বিভিন্ন
উপায়ে তাদের পণ্যসামগ্রী আটক পূর্বক সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে অগ্রণী
ভূমিকা পালন করে চলেছে বিজিবি। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আলোচনা
সমালোচনা চলমান রয়েছে। একপর্যায়ে অধিক লাভের আশায় ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য
সামগ্রী আনয়নকারিরা হতাশ হয়েছেন। এভাবে বিজিবির অভিযান চলতে থাকলে
তাদেরকে পুঁজি হারিয়ে দেনার দ্বায়ে দেউলিয়া হতে হবে’ এমনটিই আশঙ্কার কথা
শোনা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, মেজর মোঃ
ফারজিন ফাহিম, এসি জানান, চোরাকারবারী কর্তৃক মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে
অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। যেকারণে দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও দেশের তরুন/যুব সমাজকে মাদকের নির্মম ছোবল হতে রক্ষা করার মহতী উদ্যোগ নিয়ে বিজিবি’র আভিযানিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান মালামালসহ পাচার চক্র আটকের ক্ষেত্রে সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা ও টহল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বেনাপোলের আমড়াখালী চেকপোষ্ট, বোনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি ও শাহজাদপুর বিওপি’র সীমান্ত এলাকায় বিশেষ চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সর্বমোট ৭১,৩৮,০২০/- টাকা মূল্যের ভারতীয় ফেন্সিডিল, শাড়ী, কম্বল, তৈরি পোশাক, কিসমিস, বিভিন্ন প্রকার চকলেট, সন-পাপড়ী, বিভিন্ন প্রকার ঔষধ এবং কসমেটিক্স সামগ্রী আটক করা হয়। #