জমি বিক্রির টাকা ফেরত চাওয়ায় বৃদ্ধকে হুমকি, ইউপি সদস্য শিপনের বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জমি বিক্রির টাকা নিয়ে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কামরুজ্জামান শিপন (২৮) নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরও বিক্রির ৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো বৃদ্ধ জমির মালিক ও তাঁর স্বজনদের ভয়ভীতি এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুল আজিজ (৭৮)। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২ নভেম্বর ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ। তিনি উপজেলার বনগাঁও চকপাড়া গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান শিপন একই উপজেলার বনগাঁও খাপাড়া গ্রামের মো. সৈয়দুর রহমানের ছেলে। অভিযোগে বলা হয়, শিপন ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনের সঙ্গে জমি কেনাবেচার বিষয়ে চুক্তি হয় আব্দুল আজিজের। উপজেলার বনগাঁও এলাকায় ২৪ শতাংশ জমি বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, জমি রেজিস্ট্রি করার আগে অভিযুক্ত শিপন ও তাঁর সহযোগীরা জমির মূল্য বাবদ ৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তী সময়ে গত ২২ জুলাই ২০২৫ তারিখে ঝিনাইগাতী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৭৭৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। কিন্তু দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তরা জমির মূল্য বাবদ নেওয়া টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন আব্দুল আজিজ। টাকা ফেরত চাওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সময়ক্ষেপণ এবং তারিখ দিয়ে ঘোরানোর পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ঝিনাইগাতী ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকায় জনৈক মুকুল সরকারের বসতবাড়ির সামনে অভিযুক্তদের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাঁরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় আব্দুল আজিজ ও তাঁর দুই সাক্ষীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাওনা ৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুজ্জামান শিপন জানান, সম্পাদিত দলিল সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগই মিথ্যা।

অত্র অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইগাতী থানার এসআই আব্দুল মালেক জানান, অভিযোগকারীর অভিযোগমতে তিনি উক্ত জমির মালিক নন। তবে কেন বা কি কারণে আব্দুল আজিজকে দিয়ে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে এটা তার বোধগম্য নহে।