খালেদ আহমেদ :
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা। এ বৃহৎ যোগাযোগ অবকাঠামোর সঙ্গে পাবনাকে যুক্ত করতে ‘ওয়াই’ (Y) আকৃতির বহুমুখী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ও দাবি জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
নির্বাচনের আগে পাবনার উন্নয়নে ঘোষিত ২৪ দফা কর্মসূচির প্রথম প্রতিশ্রুতিই ছিল কাজিরহাট-আরিচা-দৌলতদিয়া রুটে ওয়াই আকৃতির সেতু নির্মাণ। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শিমুল বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ করে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরছেন। গত ১৬ আগস্ট পাবনায় এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, পাবনাকে যুক্ত করে ওয়াই সিস্টেমের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিমুল বিশ্বাসের উদ্যোগ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় প্রস্তাবিত ওয়াই-প্যাটার্ন সেতুর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানেও পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বাজেট থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নেপাল, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের পাঁচটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কনসোর্টিয়াম এ সমীক্ষার কাজ করছে। সমীক্ষা সম্পন্ন করতে ১২ মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ওয়াই আকৃতির সেতু পরিকল্পনায় কাজিরহাট, আরিচা ও দৌলতদিয়াকে সংযুক্ত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে সড়কপথের পাশাপাশি রেললাইন স্থাপন, যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের সুবিধা এবং তিন অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সংযোগ সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের বহুমুখী যোগাযোগ অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে পাবনা, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিমুল বিশ্বাস প্রত্যাশা করেন যে, কাজিরহাট-আরিচা-দৌলতদিয়া ওয়াই-প্যাটার্ন সেতুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পাবনা আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে পিছিয়ে থাকবে না। কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাবনা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক করিডোরে পরিণত হতে পারে।
তবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত রুট, ওয়াই-প্যাটার্নের সংযোগ, রেললাইন স্থাপন, নকশা, ব্যয় ও নির্মাণের সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও কারিগরি মূল্যায়নের পর এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।
