প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির সুবিধার্থে ডিসি অফিসে লিফট স্থাপনে পদক্ষেপ নেয়া হবে- বগুড়া জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার:
উইমেন উইথ ডিজএ্যাবেলিটিস ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডব্লিউডিডিএফ) এবং ফাউন্ডেশন ফর এ জাস্ট সোসাইটির (এফজেএস) অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘টাচ টু হার্ট এ্যাস্ক ফর ইকুয়্যালিটি’ (টিএইচএই) প্রকল্পের আওতায় ‘প্রোজেক্ট ক্লোজিং অপারেশন টু লোকাল এ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের করতোয়া কনফারেন্স হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান। সভাটি সঞ্চালনা ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডব্লিউডিডিএফ’র নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি। স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপনের সময় জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত সরকারের সকল কর্মকর্তা, প্রতিবন্ধী নারী, সাংবাদিকবৃন্দ, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী নারীদের মধ্যে যারা স্বনির্ভর হয়েছেন তাদের স্বাগত জানান। তিনি ডব্লিউডিডিএফ এর প্রতিষ্ঠা, বগুড়ায় কাজ শুরু করার কারণ ও প্রতিবন্ধী নারীদের সার্বিক পরিবর্তনের জন্য করণীয় সর্ম্পকে জানান। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব্লিউডিডিএফ’র কর্মসূচি সহ-সমন্বয়কারী শারমিন আক্তার দোলন। মূল প্রবন্ধে তিনি বগুড়া জেলায় টিএইচএই প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম, অর্জিত অগ্রগতি এবং প্রতিবন্ধী নারীদের জীবনমান উন্নয়নে ডব্লিউডিডিএফ’র ভূমিকা ও সামগ্রিক কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এছাড়াও প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের পরিবর্তন বিষয়ে বিস্তারিত ফলাফল উপস্থাপন করেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, “যেসব এনজিও ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ করে, তাদের অনেকের লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন করা। কিন্তু ডব্লিউডিডিএফ পরিচালনা করছে প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যতিক্রমধর্মী ও সকলের জন্য উৎসাহদায়ক। বগুড়া জেলায় প্রতিবন্ধী নারীদের জীবনমান উন্নয়নে সংস্থাটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কার্যক্রম দৃশ্যমান এবং প্রশংসনীয়।”
তিনি আরও বলেন, ডব্লিউডিডিএফ আগামি ৪ বছরের জন্য বগুড়া জেলার নতুন করে চারটি ইউনিয়নে কাজ করবে বলেছে কিন্তু এটি ভবিষ্যতে ৪০টি ইউনিয়নে সম্প্রসারিত হলে তিনি খুশি হবেন, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্থাটি শুধু প্রতিবন্ধী নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেই কাজ করছে না বরং তাঁদের নেতৃত্বের বিকাশ, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিবন্ধী নারীদের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়াও তিনি ডাব্লিউডিডিএফ এর অন্যতম চাহিদা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট লাগানোর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আস্বস্ত করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজওয়ান হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক হাবিবা ইয়াসমিন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রোগ্রাম অফিসার হাসনা জাহান, সোনাতলা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা আসমাউল হুসনা, বগুড়ার সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র বগুড়ার প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার। এছাড়াও সভায় ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী নারী ও তাদের প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রতিবন্ধী মেয়ে শিক্ষার্থী এবং ডব্লিউডিডিএফ’র প্রধান কার্যালয় ও শাখা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ডব্লিউডিডিএফ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী নারী ও মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সচেতনতা বৃদ্ধি, নেতৃত্বের বিকাশ, শিক্ষা অব্যাহত রাখা, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এফজেএস এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত টিএইচএই প্রকল্পের মাধ্যমে বগুড়া জেলায় প্রতিবন্ধী নারী ও মেয়েদের অধিকার, মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবন্ধী নারী ও মেয়েদের অধিকার, মর্যাদা, সমতা এবং সমাজের সর্বস্তরে তাঁদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, উন্নয়ন সহযোগী ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে ডব্লিউডিডিএফ।