পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, ছিঁড়ে ফেলা হলো প্রবেশপত্র

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে পরীক্ষা শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে বাড়ি ফেরার পথে এক কলেজশিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর চাচা ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে। এ সময় শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও কলেজের ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা এলাকার রহিম মার্কেটের পশ্চিম পাশে সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ (২২) মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের বি.এ. শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি কালেঙ্গা এলাকার শানু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় শাকিল আহমেদ কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে আবুল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে তাঁর সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ স‚ত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন শাকিল আহমেদ বি.এ. পরীক্ষা শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরেন। কালেঙ্গা বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে বাড়ির উদ্দেশে যাওয়ার পথে রহিম মার্কেটের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ব্যক্তিরা তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় জিআই পাইপ দিয়ে তাঁর ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পাশাপাশি কিল-ঘুষ ও লাথি মেরে তাঁকে আহত করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। শাকিলের অভিযোগ, হামলার সময় তাঁর পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও কলেজের ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ছাড়া তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগকারী আরও জানান, অভিযুক্ত আবুল হোসেন তাঁর আপন চাচা। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। শিক্ষাজীবন ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাকিল আহমেদ মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কাছেও লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং তাঁর শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সহায়তা চেয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার এসআই রাজিব জানান- বিষয়টি পারিবারিক ও ভ‚মি সংক্রান্ত। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।