বিশেষ প্রতিনিধি :
পাবনা শহরের ইয়াকুব প্লাজার ‘জি-এক্স এরিনা’ গেমিং সেন্টারে স্কুল চলাকালে গেম খেলতে গিয়ে ১০ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। টাকার বিনিময়ে দীর্ঘ সময় গেম খেলার সুযোগ, অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের সেখানে ভিড় এবং স্কুল ফাঁকি দিয়ে গেম খেলতে যাওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিবি পুলিশের অভিযানে ওই শিক্ষার্থীদের আটক করা হয়। পরে অভিভাবকরা মুচলেকা দিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর চালু হওয়া গেমিং সেন্টারটিতে ৩০০ টাকায় দুই ঘণ্টা এবং ১ হাজার ২০০ টাকায় সারাদিন গেম খেলার সুযোগ রয়েছে। রিভলবিং চেয়ারে বসে বা হেলান দিয়ে দীর্ঘ সময় গেম খেলার এ ব্যবস্থা শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ চলাকালে শিক্ষার্থীদের সেখানে অবস্থান করার বিষয়টি অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকার ১৪ বছর বয়সী রুদ্রের পরিবারের দাবি, গেম খেলতে নিষেধ করায় সে খাবার খাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল। পরিবারের ভাষ্য, অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুটির মধ্যে গেমিংয়ের প্রতি তীব্র আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনা শিশু-কিশোরদের গেমিংয়ের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কাকে সামনে এনেছে।
শিক্ষার্থীদের স্কুল চলাকালে গেমিং সেন্টারে পাওয়া যাওয়ার ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের বয়স যাচাই, স্কুলের সময় তাদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘ সময় গেম খেলা নিরুৎসাহিত করার মতো কোনো ব্যবস্থা সেখানে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে দুই ঘণ্টা থেকে সারাদিন গেম খেলার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় সেখানে কাটানোর সুযোগ পাচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের স্কুল ফাঁকি দিতে উৎসাহিত করে কি না, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিভাবকদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকলে শিশুদের চোখে চাপ পড়তে পারে। পাশাপাশি পড়াশোনা, ঘুম, শারীরিক কর্মকাণ্ড ও স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। টাকার বিনিময়ে দীর্ঘ সময় গেম খেলার ব্যবস্থা শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত গেমিংয়ের প্রবণতা বাড়াচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিশু-কিশোরদের বয়স ও শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনায় না নিয়ে যদি দীর্ঘ সময় গেম খেলার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ ও পড়াশোনার ক্ষতির দায় কে নেবে?
ডিবি পুলিশের অভিযানে স্কুল চলাকালে ১০ শিক্ষার্থীকে আটক করার ঘটনা গেমিং সেন্টারটির কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সময়, দীর্ঘ সময় গেম খেলার সুযোগ এবং শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
শুধু শিক্ষার্থীদের আটক করে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্কুল চলাকালে শিক্ষার্থীরা কীভাবে এমন প্রতিষ্ঠানে সময় কাটাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শিশু-কিশোরদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের স্বার্থে গেমিং সেন্টারটির কার্যক্রমে কার্যকর নজরদারি, প্রযোজ্য নিয়মের প্রয়োগ এবং অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
