আগৈলঝাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদক, চুরি, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খানের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে শতাধিক মাদকসেবী, ব্যবসায়ী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান আগৈলঝাড়াকে মাদকমুক্ত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার কথা জানিয়ে বলেছেন- “মাদক প্রতিরোধে আমি জিরো টলারেন্স। হয় আমি থাকবো নয় মাদক থাকবে”। তার নির্দেশনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করে এর ভেতরের তামা ও লোহা বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা হয়েছে। বিভিন্ন বাজারে রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রহরী ও নাইট গার্ডের ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বাড়ানো, অপরাধের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখার ওপরও জোর দিয়েছেন ওসি। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থানা দালালমুক্ত পরিবেশে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন।
ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, “একটি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে শুধু পুলিশের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশকে তথ্য ও সহযোগিতা দিলে মাদক, চুরি ও অন্যান্য অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আগৈলঝাড়াকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা- মাদক ও অপরাধবিরোধী এধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগৈলঝাড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত হবে। একই সঙ্গে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠবে।
