সুন্দরগঞ্জে চার বছরেও নির্মাণ হয়নি স্কুল গেট, ঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণদহ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন গেটের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কাজটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের বরাদ্দও ফেরত গেছে। ফলে অসম্পূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ গেটের নিচ দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর কিছুদিন পর গাইবান্ধার ঠিকাদার শহিদুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে চলে যায়। পরবর্তীতে পুনরায় টেন্ডার হলে জামালপুরের মাসুদ মিয়া নামে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কিন্তু তিনিও অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করেননি। এভাবে দীর্ঘ চার বছর ধরে গেটটির নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা বেগম বলেন, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে গেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রথম ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর পুনরায় টেন্ডার হয়। দ্বিতীয় ঠিকাদারও কাজ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে বারবার জানানো হয়েছে। বর্তমানে গেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন।

সুন্দরগঞ্জ এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহবুব উল আলম বলেন, পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়ের গেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। কাজ শুরুর পর প্রথম ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি কাজ করতে পারেননি। পরে পুনরায় টেন্ডার হলে জামালপুরের মাসুদ মিয়া কাজ পান। কিন্তু তিনি অবশিষ্ট কাজ শেষ করেননি। বিলম্বের কারণে পিইডিপি-৪ প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায় এবং নির্মাণকাজের বরাদ্দ ফেরত যায়।

তিনি আরও জানান, গেট নির্মাণে মোট বরাদ্দ ছিল ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে আংশিক কাজের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আর বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, বিদ্যালয়ের গেটটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। এটি দ্রুত মেরামতের বিষয়ে গত মাসের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক এমদাদুল হক বলেন, গেটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখনো গেটটির শাটার পর্যন্ত খোলা হয়নি। ছেলে-মেয়েরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গেটের নিচ দিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত এটি সংস্কার বা সম্পূর্ণ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে, সেহেতু নতুন করে চাহিদা পাঠাতে হবে। অথবা এডিপির বরাদ্দ থেকেও কাজটি করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ গেটটি দ্রুত অপসারণ, সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।