ওসমান গনি বেড়া পাবনা
স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পাবনার বেড়া উপজেলার ১৮ নং চর পেঁচাকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
একতা বন্ধু উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, যমুনা কেমিক্যাল ও নুর এগ্রো ডেইরি ফার্মের সার্বিক সহযোগিতায় এবং বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী নিজেদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে জানতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও বৃক্ষরোপণে আগ্রহ তৈরি করতে প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।( ৩ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে এ আয়োজনকে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়। রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পাশাপাশি তাদের বোঝানো হয় জরুরি প্রয়োজনে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কীভাবে একজন মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।অন্যদিকে, গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একটি গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নির্মল বাতাস ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, মানবিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশের প্রতি ভালোবাসায়ও গড়ে তুলতে হবে। ছোটবেলা থেকেই এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে তারা সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।
এ সময় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, একতা বন্ধু উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতন করা এবং পরিবেশ রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মানবতার সেবা ও সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
