সুন্দরগঞ্জে এক নারীর বিরুদ্ধে নিজ অংশের চেয়ে বেশি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক নারীর বিরুদ্ধে নিজ অংশের চেয়ে বেশি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। বাটোয়ারা সূত্রে নিজের ক্রয়কৃত ও ভাগি শরিকের নিকট থেকে ওই নারী মোট জমি পায় ৪৯ শতক। অথচ তার দখল রয়েছে ৮৬ শতক। গাইবান্ধার আমলি আদালতের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধী জমি নিয়ে ওই নারীর দায়ের করা মামলা খাজির করে দিয়েছে। নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য প্রতিপক্ষের এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে অপপ্রচারের মেতে উঠেছেন নারী পক্ষের লোকজন। এনিয়ে থানায় উভয় পক্ষ অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘ দিন হতে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ছয়ঘরিড়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের স্ত্রী মোছা. মমতাজ বেগমের সাথে ভাগি শরিক ছয়ঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সহকারি শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন তালুকতার মিলনের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে থানায় এবং আদালতে মামলা ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মামলটি খারিজ হয়ে যায়।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, আদেশে ও স্থানীয় একাধিক সালিশনামায় বলা হয়েছে, মজিবর রহমান বণ্টননামা মতে তার ব্যক্তিগত, পিতা ও মাতার অংশ মিলে মোট জমি মালিক ১৪৬ শতক। মজিবর রহমান বিক্রি করেন ১৮ শতক এবং তার স্ত্রী মমতাজ বেগমকে দলিল করে দেন ১৫ শতক। মজিবর রহমান মৃত্যুর পর তার অবশিষ্ট ১০৩ শতক জমির মালিক হন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। তার স্ত্রী ও সন্তানরা বিক্রি করার পর বর্তমানের তাদের জমির পরিমান ৪৯ শতক। অথচ তার ভোগ করছেন ৮৬ শতক। নিজ অংশের চেয়ে ৩৬ শতক জমি বেশি দখল করে আছেন।

প্রতিপক্ষ স্কুল শিক্ষক মিলন বলেন, মামলাটি খারিজ হওয়ার পর মমতাজ বেগম ও তার সন্তানরা তাদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য আমার নামে ফের থানায় অভিযোগসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার করছেন। তিনি যেহেতু একজন সরকারি চাকরিজীবী, সে জন্য এনিয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

মমতাজ বেগম বলেন, প্রতিপক্ষ স্কুল শিক্ষক মিলন যেসব কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি দখল করে খাচ্ছেন, তা সঠিক নয়। মামলা খারিজের ব্যাপারে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই।

থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, এনিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। ২১ আগষ্ট শুক্রবার শুনানির জন্য কাগজপত্রসহ উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।