বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরা হলো না দুই শিশুর, ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল বাবার প্রাণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা:
মাত্র ১১ দিনের ছোট বোনকে দেখে দুই সন্তানকে মোটরসাইকেলে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা। হয়তো বাড়ি পৌঁছে ছোট্ট বোনটির গল্পই করত তারা। কিন্তু সেই পথেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পাশাপাশি চলা দুই মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সড়কে ছিটকে পড়েন বাবা ও দুই শিশু। মুহূর্তেই দ্রুতগতির একটি ট্রাক কেড়ে নেয় বাবার প্রাণ। অবুঝ দুই সন্তান বেঁচে গেলেও তাদের আর বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরা হলো না। বাবার নিথর দেহ পড়ে রইল ঘটনাস্থলে, আর ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরতে হলো দুই শিশুকে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের ঈশ্বরদীর ঢুলটি বাজার এলাকায় হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বাহারুল (৪৫) পেশায় যানবাহন শ্রমিক। তিনি ঈশ্বরদী পৌরসভার মাহাতাব কলোনি এলাকার মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ দিন বয়সী নবজাতক কন্যা ও স্ত্রীকে দেখতে পাবনা সদর থানার আটমাইল এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন বাহারুল। স্ত্রী ও নবজাতক কন্যাকে দেখে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈশ্বরদীর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

পথে ঢুলটি বাজার এলাকায় পৌঁছালে পাশাপাশি চলা দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে ধাক্কা লাগে। এতে বাহারুল ও তাঁর দুই সন্তান সড়কে ছিটকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে বাহারুলের ধাক্কা লাগে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বাবার মৃত্যু হলেও সৌভাগ্যক্রমে দুই শিশু প্রায় অক্ষত থাকে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে অবুঝ দুই সন্তানকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
একদিকে বাবার মরদেহ, অন্যদিকে ঘরে ১১ দিনের নবজাতক বোন—বাহারুলের পরিবারের ওপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাবা সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত সেই বাবাকেই হারিয়ে নিঃস্ব হলো পরিবারটি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাহারুলের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।