কামরুল হাসান, টাংগাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের উপশহর এলেঙ্গা পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। এমনকি নতুন ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও ৫০০ টাকা করে উৎসকর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি, ফরম ও অন্যান্য নির্ধারিত খরচ পরিশোধের পরও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। কেউ অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রেড লাইসেন্স পেতে বিলম্বসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত বছর এলেঙ্গা পৌরসভা থেকে ৯২৩টি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২০৯টি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এসব লাইসেন্সের মধ্যে উৎসকর জমা দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এ সংক্রান্ত কিছু প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
সরেজমিনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে উৎসকর নেওয়ার বিধান না থাকলেও ৫০০ টাকা করে উৎসকর নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা উৎসকর নেওয়ার বিধান থাকলেও নতুন ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও একই হারে উৎসকর আদায় করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ট্রেড লাইসেন্স একটি নিয়মিত সরকারি সেবা। তাই নির্ধারিত ফি ও অন্যান্য খরচের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তারা আরও বলেন, পৌরসভার নির্ধারিত ফির তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি কমবে এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগও বন্ধ হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে এলেঙ্গা পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবুল কাশেম বলেন, আমি নিজে কোনো অতিরিক্ত টাকা নিই না। অন্যের হাত হয়ে টাকা আসলে কেউ অতিরিক্ত টাকা নিতে পারে।
নতুন ট্রেড লাইসেন্সে উৎসকর নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,সরকারি নিয়মে না থাকলেও ট্রেনিংয়ের সময় তাদের এ বিষয়ে বলা হয়েছে। সে কারণেই উৎসকরের টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তবে নতুন ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে উৎসকর আদায়ের অভিযোগ এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
