বর্ষার গান আর কবিতায় প্রাণের ছোঁয়া দিল রূপান্তর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পাবনা

খালেদ আহমেদ :
“সৃজনশীলতাই আমাদের লক্ষ্য”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রূপান্তর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, পাবনার উদ্যোগে বর্ষাকে বরণ করে এক প্রাণবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া ‘বর্ষামঙ্গল’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। চা-আড্ডা, ফল ও নাস্তা গ্রহণ, বর্ষার গান, গল্প, কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্য আলোচনা এবং পরিচয় পর্বের সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের কাছে ব্যতিক্রমধর্মী এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় পাবনা শহরের শ্যামঠাকুর রোডে হামিদ কমপ্লেক্সের বার্গার কিং-এ প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষার আবহ, সাহিত্যচর্চা ও সুরের মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে চা-নাস্তা আর গল্প চলে অবিরত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেয়া ও গান করে আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যান চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরীফ মহমুদ সঞ্জু।
রূপান্তর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, পাবনার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক দেওয়ান মাযহার মুন্নু-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমবায় অফিসার মাসুদ রানা, সামসুল হুদা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সেলিনা আক্তার শেলী, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পাপীয়া শবনম, প্রভাষক মেহেদী হাসান, কুলনীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোটারিয়ান আলাউদ্দিন পরাগ, দাপুনিয়া শাখা অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আফসার আলী, মালঞ্চি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাইমুন্নাহার কবিতা, এমএস ল্যাবরেটরিজের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল আলম ফারুক, তবলচি আতিকুর রহমান পল্লব, আবৃত্তি প্রশিক্ষক ও বাচিক শিল্পী আব্দুল্লাহ আল মামুন, আয়োজক সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য পারুল আক্তার, সদস্য রেখা খাতুন এবং সিএনএফ টিভির চেয়ারম্যান খালেদ আহমেদ।
বক্তারা বলেন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চা সমাজকে আলোকিত করে এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করে তুলবে এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা পর্ব শেষে বর্ষার গান, কবিতা আবৃত্তি ও গল্প পরিবেশনায় শিল্পী ও অংশগ্রহণকারীরা মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেন। সুর, শব্দ ও অনুভূতির অপূর্ব মেলবন্ধনে উপস্থিত সবাই এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা রূপান্তর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, পাবনাকে এমন নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, মেলবন্ধন ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।