খালেদ আহমেদ :
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং দপ্তরের নিজস্ব অর্থায়নে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পাবনা জেলার অসচ্ছল ও মেধাবী ১২০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। চারটি ক্যাটাগরিতে ১০, ১৫, ১৮ ও ২০ হাজার টাকা হারে মোট ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা পরিষদের রশিদ হলে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বশেষ সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত করার যে স্বপ্ন জাতি দেখেছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মহৎ একটি স্বপ্ন ও দেশপ্রেমের চেতনা নিয়ে তারা এগিয়ে এসেছিল, যা দেশের মানুষকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদে ভরপুর একটি দেশ। পদ্মা, যমুনা, ইছামতিসহ অসংখ্য নদ-নদীবিধৌত পাবনার সৌন্দর্য যেমন মানুষের হৃদয় জয় করেছে, তেমনি এ জেলার বহু কৃতী সন্তান জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে পাবনাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় সাড়ে চারশ বছর আগে এই বাংলা ছিল পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ, সম্পদশালী ও অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ জনপদ। পাঠান, মারাঠা, বরগী, শক, হুন, পারস্য ও ইংরেজসহ বিশ্বের বিভিন্ন জাতি এ দেশের সম্পদ ও সমৃদ্ধির আকর্ষণে এখানে এসেছিল। অথচ আজ কর্মসংস্থানের সন্ধানে প্রায় দুই কোটি বাংলাদেশিকে দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে। ইংরেজ শাসনের আগে প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্থনৈতিক শক্তি এবং মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির কারণে বাংলাদেশ ছিল এক সমৃদ্ধ জনপদ।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যে বাংলাদেশ মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করবে। কবির ভাষায় ‘সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা’ সেই সোনার বাংলাকে আবারও গড়ে তুলতে হবে। একসময় এ দেশে ছিল পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গরু ও গোলাভরা ধান। প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসায় ভরপুর সেই বাংলাদেশই আমাদের অনুপ্রেরণা।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতি বুকে ধারণ করে আমাদের এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সব ধরনের অনাচার, বৈষম্য ও অবিচারের অবসান ঘটবে এবং দেশ হবে নিরাপদ, মানবিক ও বাসযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, অতীতের সকল ত্যাগ-তিতিক্ষার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আজকের তরুণ প্রজন্ম নতুন বাংলাদেশের পথ নির্মাণ করেছে। ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্বও তারাই দেবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিষু।
স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা সুলতানা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি মোজাম্মেল হক কবির, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, সদর গোরস্থান ও ঈদগাহ কমিটির সভাপতি আলহাজ গোলাম রব্বানী কামনা এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ফিরোজ খান রঞ্জু।
এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবুল আহসান খান রেয়ন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর মো. মাসুম বগা এবং সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেহানুল ইসলাম বুলাল।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাইসা ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শান্ত খান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বাচ্চু, জেলা লালন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সিরাজ মাহমুদ, সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মহসিনা খান সেতু, সাধারণ সম্পাদক জিনিয়া আফরোজসহ দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মতিয়ার রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন নুর মো. মাসুম বগা এবং গীতা পাঠ করেন শিক্ষার্থী মৌ পর্ণা সাহা প্রেমা।
