হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা ডিগ্রি কলেজ সড়কের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে পূর্ব বেলকা গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী মোছা. মেলেকা বেগম (৫২), তিনি পূর্ব বেলকা গ্রামের মৃত আমান উদ্দীনের স্ত্রী।
লিখিত বক্তব্যে মেলেকা বেগম অভিযোগ করেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২১ মে বিকেল ৪টার দিকে তার প্রতিবেশী মৃত নুরুল হকের ছেলে নান্নু মিয়া, রানা মিয়া এবং তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু, আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড়সহ প্রায় ৭০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে তাকে এবং তার দুই নাতনিকে মারধর করে আহত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে গত ৬ জুন তিনি সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে জেমস মিয়া, নান্নু মিয়া, রানা মিয়া, আতিকুর রহমানসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মেলেকা বেগম জানান, মামলার পর থেকে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। প্রাণভয়ে তিনি বর্তমানে নাতি-জামাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং সেখানেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত নান্নু মিয়া ও রানা মিয়ার পরিবারকে তার চাচাতো ভাই রওশন আলম আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সাল থেকে তারা ওই জমির মালিকানা দাবি করে বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা শুরু করে। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মেলেকা বেগম তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দখলকৃত জমি উদ্ধার, লুট হওয়া মালামাল ফেরত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
