আগৈলঝাড়ায় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনের দিনই সেবা গ্রহীতা এক গৃহবধূকে মারধর করলো অফিস সহায়ক

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধনের দিনই সেবা গ্রহীতাকে মারধর করে হাতের শাঁখা ভেঙ্গে দিয়েছে ভূমি অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশা। ঘটনাটি উপজেলা পয়সাহাট ভূমি
অফিসে মঙ্গলবার বিকেলে ঘটেছে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের সরবাড়ি গ্রামের রনজিত জয়ধরের স্ত্রী শিখা জয়ধর নিজেদের জমির দুটি মিউটেশন করানোর জন্য পয়সারহাট ভূমি অফিসের সহায়ক আবুল বাশার বাদশার কাছে ২০২৪ সালে ১৫ হাজার টাকা দেন। দীর্ঘ দুই বছর ধরে বাদশা মিউটেশন না করে ওই গৃহবধূর সাথে টালবাহনা করতে থাকে।
ওই গৃহবধূ একাধিকবার ভূমি অফিসে গিয়ে কোন সুরাহা পায়নি।
মঙ্গলবার ভুমিসেবা মেলা উদ্বোধনের দিন ওই গৃহবধূ শিখা জয়ধর পয়সারহাট ভূমি অফিসে তার মিউটেশনের কাগজপত্র আনতে গেলে অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশা কাগজপত্র না দিয়ে তাকে গালমন্দ করে অফিস থেকে বের করে দেয়। পরে অফিসের বাইরে দু’জনের মধ্যে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে বাদশা ওই গৃহবধূকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয়। এসময় ওই গৃহবধূুর বাম হাতের একটি শাঁখা ভেঙ্গে যায়। পরে ওই গৃহবধূ আবুল বাশার বাদশাকেও একটি চড় মারে। পরে স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আবুল বাশার হাওলাদার ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর পয়সারহাট ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পরে।
গৃহবধূ শিখা জয়ধর বলেন, আমি গত দুই বছর পূর্বে আমাদের জমির মিউটেশনের জন্য ভূমি অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশার কাছে গেলে সে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। আমি সেই টাকা দিয়ে
দীর্ঘদিন পার হলেও মিউটিশনের কাগজপত্র পাইনি। মঙ্গলবার আবুল বাশারের কাছে মিউটিশনের কাগজপত্র চাইতে গেলে সে আমাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে মারধর করে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত পয়সারহাট ভূমি অফিস সহায়ক আবুল বাশার বাদশা শিখা জয়ধরের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, তার কাগজপত্র ৫ মাস পূর্বে তাকে দেওয়া হয়েছে।
ওই গৃহবধূুর সাথে অফিসের বাইরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার পয়সারহাট ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা উত্তম বেপারী বলেন, ওই গৃহবধূুর সাথে অফিসের বাইরে অফিস সহায়ক আবুল বাশারের
সাথে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। তবে এব্যাপারে ওই গৃহবধূু আমার কাছে কোন অভিযোগ দেয়নি।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার ভুমি লিখন বনিক বলেন, ওই গৃহবধূু আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।