কোরবানি পশুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে খামারিদের শঙ্কা

ওসমান গনি বেড়া (পাবনা)

আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে প্রস্তুতকৃত কোরবানির পশুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে পাবনার বেড়া উপজেলার গো-খামারিদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেড়া প্রাণি সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ৪০ হাজার ১১০ টি কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে বেড়া পৌরসভা ও উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের যোগান বা প্রস্তুত রয়েছে মোট ৯২ হাজার ১২০ টি পশু। অতিরিক্ত পশুর যোগান রয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ১০ টি। যা চাহিদার তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশি। উপজেলার মোট ৫৩ হাজার ৫’শ খামারে ও গ্রামীণ পরিবারের উদ্যোগে দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে এসব পশু লালন পালন করা হয়েছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৫২হাজার ১০ টি পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ। বেড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় মোট গরু বেচাকেনার হাট রয়েছে তিনটি। তন্মধ্যে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বেড়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সিঅ্যান্ডবি চুতুর হাট, নাকালিয়া হাট ও বাঁধের হাট। হাটগুলোতে গরু বেচাকেনা করার জন্য খামারি ও দেশের দূর-দুরান্ত থেকে আসা গরুর বেপারিদের এবং হাটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে গবাদি পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তার বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো পশু যেন মোটাতাজা করতে না পারে, সেজন্য প্রতিটি খামারিকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন এ উপজেলায় মোট খামারির সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫’শ তন্মধ্যে চরাঞ্চল এলাকায় খামারির সংখ্যা রয়েছে ৪ হাজার ৮৮০ টি। এ দিকে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক খামারি এবং গরুর বেপারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখনো গরুর হাটগুলো পুরোপুরি জমে উঠেনি। কিছু কিছু এলাকার স্থানীয় বেপারিরা ঘুরে ঘুরে দেখে গরু পছন্দ করছেন এবং এভাবে কিছু পশু কেনাবেচা হচ্ছে বলে জানা যায়। চর সাঁড়াশিয়া গ্রামের গো-খামারি জয়নাল দোকানদার জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে কাঁচা ঘাস ও ছোলা খাইয়ে তার যোগান দেওয়া ১০ টি গরুর মধ্যে ৩ দিন আগে ৪ টি গরু বাড়ির ওপর থেকে বিক্রি করে দিয়েছেন। হাটুরিয়া গ্রামের গো-খামারি মাসুদ বলেন, এসব অঞ্চলের অধিকাংশ গো-খামারিদের ১০-২০ টি করে কোরবানির যোগ্য গরু রয়েছে। এমনিতেই দেশীও গরুর যোগান চাহিদার তুলনায় বেশি রয়েছে, তারপর যদি ভারত থেকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু আসলে গরুর বাজারে ধস নামার আশঙ্কায় খামারিরা দুশ্চিন্তা ও হতাশার মধ্য দিয়ে শেষ সময়ে এসে গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। মালদাহ্ পাড়া গ্রামের গো – খামারি মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি বছর তিনি ৫-১০ টা করে গরু লালন পালন করেন। গত বছর সে ২১ লাখ টাকার গরু বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। সেই আশায় এ বছরও তিনি ৬ টি গরুর জোগান দিয়েছেন। চরনাগদা গ্রামের খামারি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা সহ অনেকেই বলেন,বেড়া উপজেলায় চাহিদার তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশি কোরবানি যোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে খবরটি সরেজমিনে অনেকটাই সঠিক পাওয়া যায়নি। কারন হিসেবে তারা বলেন গরুর মাংসের অতিরিক্ত চাহিদার কারনে প্রতিমণ মাংসের দাম ৩০-৩২ হাজার টাকা হিসেবে দর পাওয়ায় অনেক খামারি রোজার ঈদ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত অনেক কোরবানি যোগ্য পশু বিক্রি করে দিয়েছেন। হাটুরিয়া গ্রামের পরেন বেপারি বলেন তার যোগান দেওয়া পশুর সংখ্যা ২ টি। তবে গাভি সহ ১৮ টি গরু ও ২০ টি ভেড়া রয়েছে তার। আরেক খামারি আব্দুল আলিম শেখ বলেন, তার খামারে ১৫ টি মহিষ ও গরু রয়েছে। আব্দুল আলিম প্রতি বছরই কোরবানির পশু প্রস্তুত করেন বলে স্থানীয়রা জানান। একই গ্রামের ফজর আলি প্রামানিক বলেন তার কোরবানির ঈদের জন্য ৭ টি ষাড় গরু প্রস্তুত রয়েছে। মাসুদ মোল্লার ফার্মে রয়েছে ১০ টি ষাড় গরু। নতুন পেচাকোলা গ্রামের মাসুদ মন্ডল বলেন গত বছর সে কোরবানির জন্য ১৮ টি গরু কিনে যোগান দিয়ে ঈদের সময় বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এবারও সে লাভের আশায় ২১ টি ষাড় গরু যোগান দিয়ে বিক্রির আশায় লালন পালন করছেন। তবে এসব খামারি এবারের ঈদের বাজারের কাংখিত দাম পাওয়া নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন।